প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বহু চেষ্টা করেও যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেট প্রাইমারিতে (সিনেটপ্রার্থী বাছাই নির্বাচন) প্রগতিশীল জনস্বাস্থ্যকর্মী আবদুল আল-সাইয়েদকে হারাতে পারল না ইসরায়েল।
ইসরায়েলপন্থি গোষ্ঠীগুলোর প্রায় ৬ কোটি ডলারেরও (৬০ মিলিয়ন) বেশি নির্বাচনি প্রচারণার খরচকেও বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আল-সাইয়েদ ঐতিহাসিক মনোনয়ন লাভ করেছেন।
বুধবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
মঙ্গলবারের এই নির্বাচনি ফলাফলকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রভাবশালী ইসরায়েলপন্থি লবিং গ্রুপ ‘আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি’ বা এআইপিএসির জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আবদুল আল-সাইয়েদকে হারাতে এ সংগঠনই মূলত সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী মার্কিন কংগ্রেস সদস্য হেইলি স্টিভেন্সের পক্ষে ৩ কোটি (৩০ মিলিয়ন) ডলারের বেশি অর্থ খরচ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে আগামী নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনে আল-সাইয়েদ সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন। নির্বাচনে যে কয়টি আসনে সিনেট নিয়ন্ত্রণের জন্য তীব্র লড়াই হবে, তার মধ্যে মিশিগানের এই আসনটি অন্যতম। এই আসনের ফলাফলই নির্ধারণ করতে পারে যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাকি মেয়াদে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ থাকবে কোন দলের হাতে।
মিসরীয় বংশোদ্ভূত আবদুল আল-সাইয়েদ যদি নভেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হন, তাহলে তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের প্রথম মুসলিম সিনেটর। ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে ভোট দেওয়া দোদুল্যমান মিশিগান অঙ্গরাজ্যের এই ফলাফল মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের নীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের চালানো নৃশংসতাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যা দেন আল-সাইয়েদ। যেসব যুদ্ধে অর্থ ঢাললে শুধু ইসরায়েলেরই লাভ হয়, সেই অর্থ বন্ধ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন এবং অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধানে বিনিয়োগ করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
কোনও প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি ওকালতি না করা নিরপেক্ষ সংগঠন ‘আরব আমেরিকান ইনস্টিটিউট’-এর নির্বাহী পরিচালক মায়া বেরি আল-সাইয়েদের এই জয়কে একটি ‘বিরাট ঘটনা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “ভোটাররা এমন বিজ্ঞাপনের বন্যায় পা দেননি, যেখানে কোনও নীতি বা জনকল্যাণের কথা ছিল না; বরং শুধু আবদুল নামের এক আরব–আমেরিকান মুসলিমকে লক্ষ্য করে নেতিবাচক ব্যক্তিগত আক্রমণ চালানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন