প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফেনীর একটি গ্রামীণ সড়ক সংস্কারের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি গভীর কর্দমাক্ত মরণফাঁদে পরিণত হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে বারবার আবেদন করেও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী কাদাভর্তি এই সড়কের মাঝেই ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ফেনীর পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ কাউতলী গ্রামের একমাত্র কাঁচা সড়কটিতে এই অভিনব প্রতিবাদের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, মির্জানগর ইউনিয়নের দক্ষিণ কাউতলী এলাকার এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষ যাতায়াত করেন। দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কার না করায়, সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো সড়ক হাঁটু সমান কাদায় পরিণত হয়ে যায়। বর্তমানে এই সড়কে কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষেরও হাঁটতে সমস্যা হচ্ছে। কোনো জরুরি রোগী কিংবা গর্ভবতী মায়েদের হাসপাতালে নেয়ার মতো পরিস্থিতি আর নেই।
প্রতিবাদে অংশ নেয়া স্থানীয় ভুক্তভোগী চালক আবদুল গোফরান তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়ত এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করি। গাড়ি চালানো তো দূরের বিষয়, সাধারণ মানুষের হাঁটাহাঁটির কোনো উপায় নেই। বৃষ্টি হলেই রাস্তাটি পুরো কাদার নদীতে পরিণত হয়। আমরা পাঁচ-ছয় দিন ধরে চরম ভোগান্তিতে আছি। প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো সমাধান পাচ্ছি না।’
এলাকার যুবক মহসিন মজুমদার ও মো. ইব্রাহিম জানান, এলাকাবাসী একাধিকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে রাস্তা পাকাকরণ এবং জরুরি সংস্করণের জন্য লিখিত ও মৌখিক আবেদন জানিয়েছেন। কিন্তু প্রতিবারই শুধু আশ্বাস পাওয়া যায়, কাজের কাজ কিছুই হয়নি। কোন সরকারি অর্থ বরাদ্দ না আসায় এলাকাবাসী বাধ্য হয়ে এই অভিনব প্রতিবাদের পথ বেছে নিয়েছেন। তারা চান, প্রশাসন দ্রুত ঘুম থেকে জেগে উঠুক এবং জনগণের এই দুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।
সড়কের ওপর ধানের চারা লাগানোর দৃশ্য দেখতে আশপাশের এলাকার মানুষ ভিড় জমান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই প্রতিবাদের ছবি ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, এটি শুধু একটি প্রতিবাদ নয়, বরং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের চরম উদাসীনতার একটি জীবন্ত উদাহরণ। ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জরুরিভিত্তিতে সড়কটি টেকসই সংস্কার করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর আবেদন জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জানগর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. ইমরান হোসেন বলেন, ‘সড়কটি সংস্কারের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ আসলে এ সড়কের উন্নয়ন কাজ দ্রুত শুরু করা হবে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন