প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের শুরুতে অনুষ্ঠিত প্রতিরক্ষা শিল্প ফোরামে বহুজাতিক বেশ কয়েকটি প্রতিরক্ষা উদ্যোগ উন্মোচন করেছে ন্যাটো। এসব উদ্যোগের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে আকাশভিত্তিক নজরদারি, ড্রোন প্রতিরোধ সক্ষমতা, মহাকাশ, প্রতিরক্ষা শিল্প উৎপাদন এবং গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল ব্যবস্থাপনা।
আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুইদিনব্যাপী শীর্ষ সম্মেলনের প্রথম আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান ন্যাটো ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি ফোরামের উদ্বোধন করেন ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে। তিনি উল্লেখ করেন, উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিলিয়ন ডলারের নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তির একটি নতুন ধারা শুরু হয়েছে। তার কথায়, এসব প্রকল্প প্রমাণ করে যে মিত্র দেশগুলো পরবর্তী প্রজন্মের সামরিক সক্ষমতা গড়ে তুলতে ‘হাতে হাত মিলিয়ে’ কাজ করছে।
নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন (ন্যাটো) প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ পাঁচটি উন্নতমানের নর্থরপ গ্রুম্যান এমকিউ-৪সি ট্রাইটন নজরদারি ড্রোন কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের শুরুতে নিজের বক্তব্যে এ তথ্য জানিয়েছেন জোটের মহাসচিব মার্ক রুটে।
সম্মেলনের শুরুতে মার্ক রুটে জানিয়েছেন, নজরদারি ড্রোন কেনার পরিকল্পনার কথা। তিনি বলেন যে, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, জার্মানি এবং ডেনমার্ক একটি ‘লেটার অব ইনটেন্ট’ তথা ইচ্ছাপত্রে স্বাক্ষর করেছে এই ড্রোনগুলো কেনার জন্য। তিনি আরও বলেন, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি ও রিকনাইস্যান্স (আইএসআর) সক্ষমতা প্রাপ্ত করার জন্য জোটের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন ন্যাটোর নর্থরপ গ্রুমম্যান এমকিউ-৪সি ট্রাইটন নজরদারি ড্রোনগুলো ইতালির সিগোনেলা বিমান ঘাঁটিতে মোতায়েন থাকা ন্যাটোর বিদ্যমান আরকিউ-৪ডি ফিনিক্স নজরদারি ড্রোন বহরকে সম্বলিত করবে।
ট্রাইটন ও ফিনিক্স উভয় ড্রোনই নর্থরপ গ্রুম্যান-এর আরকিউ-৪ হক প্ল্যাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এগুলোর ডানার বিস্তার প্রায় ৩৫.৪ মিটার (১১৬ ফুট) এবং এগুলো একটানা ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় আকাশে উড়ে থেকে দীর্ঘপাল্লার নজরদারি পরিচালনা করতে সক্ষম।
ন্যাটোর পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন ট্রাইটন ড্রোনগুলো জোটের ‘গ্রাউন্ড সার্ভেইলেন্স প্রোগ্রাম’কে আরও শক্তিশালী করবে এবং সদস্য দেশগুলোর নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো প্রতিরক্ষা শিল্পে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল যৌথভাবে সংগ্রহ, সংরক্ষণ, পরিবহন এবং কৌশলগত মজুদ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মহাসচিব মার্ক রুটে। তিনি জানান, এই উদ্যোগে অংশ নিচ্ছে বেলজিয়াম, কানাডা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, গ্রিস, ইতালি, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন, সুইডেন ও তুরস্ক।
ন্যাটোর ভাষ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে অনিশ্চয়তা এবং ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে প্রতিরক্ষা উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে সদস্য দেশগুলো যৌথভাবে কাঁচামাল সংগ্রহ ও কৌশলগত মজুদ গড়ে তুলবে, যাতে সংকটকালেও প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা বজায় থাকে।
জোটের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই সহযোগিতা ন্যাটোর প্রতিরক্ষা শিল্পকে আরও স্থিতিশীল করবে এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলোর প্রস্তুতি আরও জোরদার করবে। বিশ্লেষকদের মতে, সংবাদ সম্মেলনে ন্যাটোর মহাসচিবের বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তির ঘোষণা জোটটির কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন