প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বছরের পর বছর ধরে চলমান প্রশাসনিক জটিলতা, স্থানীয় কাউন্সিলের আপত্তি এবং আদালতের শুনানি শেষে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে অবস্থিত বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত একটি ইসলামিক সেন্টার মসজিদ হিসেবে ব্যবহারের অনুমোদন লাভ করেছে। ক্যাম্পবেলটাউন সিটি কাউন্সিল কর্তৃক অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম ওয়েলফেয়ার সেন্টারকে (এএমডব্লিউসি) মসজিদ হিসেবে ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি এই তথ্য জানিয়েছে। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে পাওয়া এই অনুমোদনকে সংগঠনটির সদস্যরা একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে মূল্যায়ন করছেন।
সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় মিন্টোর ১৩-১৭ ইগলভিউ রোডে অবস্থিত কেন্দ্রটি বাংলাদেশি সহ বিভিন্ন দেশের মুসলিমদের কাছে পরিচিত। ধর্মীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক সহায়তামূলক বিভিন্ন উদ্যোগেও প্রতিষ্ঠানটি সক্রিয় রয়েছে। তবে, ভবনটি মসজিদ হিসেবে ব্যবহারের অনুমোদন না থাকায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
২০১৮ সালে ভবনটি সংস্কার ও সম্প্রসারণের অনুমতি দেওয়া হয় কমিউনিটি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য। পরবর্তীতে সেখানে নিয়মিত নামাজ ও ধর্মীয় সমাবেশ আয়োজন নিয়ে আপত্তি ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ যানবাহনের চাপ, পার্কিং এবং আশপাশের পরিবেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এর প্রেক্ষিতে, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে ক্যাম্পবেলটাউন সিটি কাউন্সিল কেন্দ্রটিকে মসজিদ হিসেবে ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নিউ সাউথ ওয়েলসের ল্যান্ড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট কোর্টে আপিল করা হয়। তবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আদালত তাদের আপিল খারিজ করে দেয়, যা কেন্দ্রটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরো বাড়িয়ে দেয়।
তবে সংশ্লিষ্টরা হাল ছাড়েননি। স্থানীয় ভূমি ব্যবহারসংক্রান্ত বিধান পরিবর্তনের মাধ্যমে অনুমোদন পাওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ২০২৩ সালের নভেম্বরে এ বিষয়ে পরিকল্পনা প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে কাউন্সিলের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে প্রস্তাবটি রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা বিভাগের বিবেচনায় যায়।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কাউন্সিল প্রস্তাবটি পরবর্তী পর্যায়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। ২০২৫ সালের মার্চে পরিকল্পনা প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপের অনুমোদন আসে। একই বছরের মে ও জুনে প্রস্তাবটি নিয়ে জনমত গ্রহণ করা হয়। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পরামর্শ বিবেচনায় নেওয়া হয়। পরে আগস্টে ক্যাম্পবেলটাউন কাউন্সিলের সভায় জমির ব্যবহারসংক্রান্ত বিধান পরিবর্তনের প্রস্তাব সমর্থন পায়। তবে, মসজিদ হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পৃথক উন্নয়ন আবেদন বা ডেভেলপমেন্ট অ্যাপ্লিকেশনের অনুমোদন প্রয়োজন ছিল। এবার সেই অনুমোদনও মিলেছে।
২৭ অক্টোবর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির সভাপতি ড. আনিসুল আফসার এবং সাধারণ সম্পাদক সাদিকুর খান এই অর্জনের জন্য মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার জন্য সংগঠনের সদস্য, নির্বাহী কমিটি, বৃহত্তর মুসলিম কমিউনিটি, ক্যাম্পবেলটাউন কাউন্সিলের মেয়র ও কাউন্সিলর এবং সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের প্রতি তাঁরা ধন্যবাদ জানান।
অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম ওয়েলফেয়ার সেন্টার একটি নিবন্ধিত অলাভজনক ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান। ধর্মীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি মুসলিম কমিউনিটির সামাজিক যোগাযোগ, কল্যাণমূলক সহায়তা এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে ভূমিকা রাখছে সংগঠনটি। সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বসবাসরত বাংলাদেশিদের কাছে এটি ধর্মীয় ও সামাজিক যোগাযোগের একটি পরিচিত কেন্দ্র।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নতুন অনুমোদনের ফলে প্রতিষ্ঠানটির ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম আরও সুসংগঠিতভাবে পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে। তাঁদের মতে, দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও আইনি লড়াইয়ের পর পাওয়া এই অনুমোদন কেবল একটি ভবন ব্যবহারের অনুমতি নয়, বরং সিডনির বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন