প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর, রোববারেও হাজার হাজার মানুষ জরুরি সহায়তার জন্য অপেক্ষা করছেন। শনিবার ভোরে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের ফলে এখন পর্যন্ত ৪৮ জন নিহত এবং অন্তত ১০১ জন আহত হয়েছেন। এই ভূমিকম্পে শত শত বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার বিএনপিবির মুখপাত্র বার্তন সুয়ার পেলিতা পানজাইতান জানান, ভূমিকম্পের পর প্রায় ৫ হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছেন। ভূমিকম্পের কিছু ঘণ্টার মধ্যে ৩৪১টি আফটারশক অনুভূত হয়েছে।
কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে। জরুরি ত্রাণ পৌঁছানোর জন্য একটি সড়কও এখনো ব্যবহারযোগ্য হয়নি।
ফ্লোরেসের উত্তর উপকূলের নাঙ্গাহালে গ্রামের বাসিন্দা ৫৫ বছর বয়সী উমরি এএফপিতে বলেন, ‘আমাদের খাবার, পানি, ওষুধ এবং শিশুদের জন্য ডায়াপার দরকার।’ ভূমিকম্পের পর তিনি বাড়িতে ফিরতে ভয় পেয়ে গত ২৪ ঘণ্টা ধরে অন্যদের সঙ্গে একটি পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থান করছেন।
একই পাহাড়ে রাত কাটানো ৫৫ বছর বয়সী নুরহিদায়াতি বলেন, ‘আমি এখনো খুব আতঙ্কিত। গতকালের ভূমিকম্পের কথা মনে পড়লে বুক ধড়ফড় করছে। আমরা গতকাল শুধু দৌড়ে এখানে উঠে এসেছিলাম। আমি এখনো খুব ভয় পাচ্ছি। ১৯৯২ সালের ভূমিকম্পের স্মৃতি এখনো আমাকে তাড়া করে। তাই বাড়িতে ফিরতে সাহস করছি না।’
১৯৯২ সালে ফ্লোরেসে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামিতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল।
নুরহিদায়াতি এ বিষয়ে আরও জানান, ‘সরকার দ্রুত আমাদের কাছে প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছে দেবে- এটাই আশা করছি।’
বিএনপিবির মুখপাত্র বার্তন জানান, আহত ১০১ জনের খবর পাওয়া গেছে। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রাণহানির পাশাপাশি সমুদ্রের কাছে সংঘটিত এই ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যার ফলে স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে।’
তিনি জানান, দুর্গতদের জন্য জরুরি ত্রাণ সামগ্রী যেমন তাঁবু, খাবার, ওষুধ, কম্বল, খাট, মাদুর, বিশুদ্ধ পানি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য জেনারেটর প্রয়োজন।
শনিবার রাতে রোববার সকাল পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা আরেকজন বেড়ে গেছে।
স্থানীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার কর্মকর্তা ফাথুর রহমান রোববার এএফপিকে জানান, এখনও পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন বা নিখোঁজ রয়েছেনÑএমন খবর পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা শুধু উদ্ধার ও অনুসন্ধানের কাজে মনোযোগ দিচ্ছি এবং পুরো এলাকা তল্লাশি করছি।’
ভূতাত্ত্বিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ফ্লোরেসের উত্তর উপকূলের অদূরে সমুদ্রের নিচে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উঁচু ভবন খুব কম থাকায় বড় ধরনের ভবনধসের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।
বিএনপিবির তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৯১৪টি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া আরও শত শত বাড়ি কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভূমিকম্পে বহু সরকারি ও জনসেবা প্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৩৬টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ৩৮টি সরকারি কার্যালয় রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন