প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখায়, দুই শিশু সন্তানসহ টানা ৬০ ঘণ্টা ধরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন সুমি আক্তার ও বেলাল হোসেন দম্পতি। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করলেও, বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধায় এখনও তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।
সুমি ও বেলাল দম্পতি, তাদের দুই শিশুসন্তান এবং আরো দুজনসহ মোট ছয়জন বর্তমানে ওই এলাকায় আটকা রয়েছেন। একই সময়ে, রৌমারীর বড়াইবাড়ি ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ আরো তিনজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে।
স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানায়, গত রবিবার (১৪ জুন) ভোরে, গয়টাপাড়া ও বড়াইবাড়ি ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ মোট নয়জনকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। কাঁটাতারের কাছে নিয়ে আসা হলেও, বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যা পর্যন্ত, তারা শূন্যরেখার কাছেই খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছিলেন। ফলে তারা ভারতেও ফিরতে পারছেন না, আবার বাংলাদেশেও প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন না।
সরেজমিনে দেখা যায়, সীমান্তের এক পাশে বিএসএফ এবং অন্য পাশে বিজিবি অবস্থান করছে। মাঝখানে, দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে অসহায় অবস্থায় বসে আছেন সুমি ও বেলাল। সুমির কোলে রয়েছে ছয় মাস বয়সী শিশু ফাইমা এবং বেলালের কোলে চার বছর বয়সী শিশু ফাতেমা।
জানা গেছে, সুমি আক্তার ও বেলাল হোসেনের বাড়ি ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া ইউনিয়নের কংশেরকুল গ্রামে। কয়েক মাস আগে, তারা সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন বলে জানা গেছে। পরে, বিএসএফ তাদের আটক করে রবিবার ভোরে সীমান্তে নিয়ে আসে।
বিজিবির দাবি, সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে রৌমারীর দুটি সীমান্ত দিয়ে নয়জনকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করেছে বিএসএফ। তবে বিএসএফের দাবি, সীমান্তে অবস্থানরত ব্যক্তিরা বাংলাদেশের নাগরিক। ভুক্তভোগীরাও নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে পরিচয় দিয়েছেন। কিন্তু অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের বিষয়টি যাচাই না হওয়া পর্যন্ত, তাদের গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বিজিবি।
এ ঘটনায় রবিবার দুপুরে, বিজিবি ও বিএসএফের কম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও, কোনো সমাধান কিছুই হয়নি। গয়টাপাড়া বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার সুবেদার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তারা এখনো শূন্যরেখার কাছে অবস্থান করছেন। কম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠক হয়েছে, তবে এখনো কোনো সমাধান হয়নি।’
তিনি আরো জানান, বিএসএফ তাদের কম্বল, পলিথিন ও খাবার দিয়েছে। পাশাপাশি, স্থানীয় বাসিন্দারাও খাবার ও ছাতা দিয়ে সহযোগিতা করছেন।
শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সীমান্ত এলাকায় গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিএসএফ পুশ ইনের চেষ্টা করেছে, কিন্তু আমরা তাদের প্রবেশ করতে দিইনি। গ্রহণযোগ্য সমাধান না হওয়া পর্যন্ত, তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন