প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শরীরের সবচেয়ে সংবেদনশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটি হলো চোখ। কিন্তু প্রতিদিনের কিছু সাধারণ অভ্যাসের কারণে ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি হতে পারে। ভারতের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. রাশ্মি জয়সওয়ালের ভাষ্যমতে, অনেক মানুষ এমন কিছু ভুল নিয়মিতভাবে করেন, যা প্রথমে খুব গুরুতর মনে নাও হতে পারে, তথাপি দীর্ঘমেয়াদে চোখের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
১. চিকিৎসকের শরণাপন্ন না হওয়া সমস্যা থাকলে
অনেকেই ঝাপসা দেখা, কম আলোতে পড়তে অসুবিধা হওয়া কিংবা রাতে গাড়ির আলোতে অতিরিক্ত ঝলক লাগার মতো উপসর্গের গুরুত্ব দেন না। তবে এই সমস্ত লক্ষণ ছানি, গ্লুকোমা, বা রেটিনার বিভিন্ন সমস্যা নির্দেশ করতে পারে। তাই দেরি না করে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শটি নিতে দেরি করা উচিত নয়।
২. চশমার পাওয়ার পরীক্ষা করে নিশ্চিন্ত থাকা
চশমার পাওয়ার সঠিক থাকাটা মানেই যে চোখ সুস্থ—এমন ভ্রান্ত ধারণা। শরীরের বিভিন্ন জটিল রোগ শনাক্ত করার জন্য পূর্ণাঙ্গ চক্ষু পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ অপটিক্যাল দোকানে এরূপ পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না।
৩. নিজের সিদ্ধান্তে আই ড্রপ ব্যবহার করা
চোখ লাল বা অস্বস্তি দেখা দিলে অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই আই ড্রপ ব্যবহার করেন। এতে সাময়িক স্বস্তি মিললেও কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে, স্টেরয়েড যুক্ত আই ড্রপ অনিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহার করলে গ্লুকোমাসহ অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
৪. দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা
কম্পিউটার, মোবাইল, বা ট্যাবের স্ক্রিনে দীর্ঘ সময় কাজ করলে চোখে চাপ পড়ে। এই সমস্যা কমানোর জন্য, স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা আরামদায়ক পর্যায়ে রাখতে, সঠিক ভঙ্গিতে বসতে এবং ২০-২০-২০ নিয়ম অনুসরণ করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। অর্থাৎ প্রতি ২০ মিনিট পর অন্তত ২০ সেকেন্ড ২০ ফুট দূরের কিছু দিকে তাকানোর অভ্যাস করা উচিত।
৫. বছরের পর বছর একই চশমা ব্যবহার করা
চোখের পাওয়ার সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে পুরোনো পাওয়ারের চশমা দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে চোখে অতিরিক্ত চাপ পড়ে, এবং এর ফলে মাথাব্যথা, চোখের ক্লান্তি ও অস্বস্তির সৃষ্টি হতে পারে।
৬. কনট্যাক্ট লেন্স পরে ঘুমিয়ে পড়া
অনেকে অসাবধানতাবশত কনট্যাক্ট লেন্স খুলতে ভুলে যান। কিন্তু লেন্স পরে ঘুমালে কর্নিয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়, যা গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
৭. নিয়মিত চোখ পরীক্ষা না করানো
শুধু পরিষ্কার দেখা মানেই চোখ সম্পূর্ণ সুস্থ—এমন ধারণাও ভুল। গ্লুকোমার মতো অনেক রোগ দীর্ঘ সময় ধরে কোনো লক্ষণ ছাড়াই অগ্রসর হয়। তাই নির্দিষ্ট সময় অন্তর চোখের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা করানো দৃষ্টিশক্তি রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৮. বাইরে বের হয়ে সানগ্লাস ব্যবহার না করা
সূর্যের অতিবেগুনি (ইউভি) রশ্মি দীর্ঘ সময় চোখের ক্ষতি করতে পারে এবং ছানিসহ বিভিন্ন চোখের রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই বাইরে বের হলে ভালো মানের ইউভি-প্রতিরোধী সানগ্লাস ব্যবহার করা চোখের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
চোখের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে বড় কোন পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা এবং দৈনন্দিন কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললেই দীর্ঘ সময় দৃষ্টিশক্তি ভাল রাখা সম্ভব।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন