ঢাকা শুক্রবার, ০৮ই মে, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৫শে বৈশাখ, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জ্বিলকদ, ১৪৪৭হিজরী
শুক্রবার, ০৮ই মে, ২০২৬ইং ২৫শে বৈশাখ, ১৪৩২বাং

পূর্ণিমাকে দেওয়া চিঠিতে কী লিখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী


পূর্ণিমাকে দেওয়া চিঠিতে কী লিখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী

চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে একসময় একটি চিঠি পেয়েছিলেন। সম্প্রতি তিনি একটি পডকাস্ট শোতে গিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।

পূর্ণিমা জানান, ২০০৩ সালে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের গ্যারিসন সিনেমা হলে সপরিবারে ‘মনের মাঝে তুমি’ সিনেমাটি দেখে তিনি মুগ্ধ হয়ে কলম ধরেছিলেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুভেচ্ছাস্বরূপ সেই চিঠিটি তাকে দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে জনপ্রিয় অভিনেত্রী বলেন, 'বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সে সময় চিঠিতে ‘মনের মাঝে তুমি’র সকল অভিনয়শিল্পীর নাম উল্লেখ করে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছিলেন।'

তিনি লিখেছিলেন, "এরকম সিনেমা নিয়মিতভাবেই নির্মাণ হওয়া উচিত। আমরা যেন আমাদের ভালো কাজের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখতে পারি, সেই কামনাও ব্যক্ত করেছিলেন তিনি। তার এ উদারতা সব সিনেমা সংশ্লিষ্টদের মুগ্ধ করেছিল।"

আরও পড়ুন: বই ব্যবসার উন্নয়নে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের

পূর্ণিমা আরও জানান, "তখন তো সামাজিক মাধ্যমের যুগ ছিল না। সে সময় আমার মা পরিচিত সব সাংবাদিকদের চিঠিটি দেখিয়েছিলেন।"

‘বিহাইন্ড দ্য ফেইম উইথ আরআরকে’ নামে এই শোতে তিনি তার জীবনের নানা বিষয় শেয়ার করেছেন উপস্থাপক রুম্মান রশীদ খানের সঙ্গে। অভিনেত্রী জানিয়েছেন যে, রায়হান রাফী পরিচালিত ‘দহন’ এবং ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি প্রস্তাব পেয়েছিলেন। তিনি এমনকি ‘দহন’ সিনেমায় সাইনও করেছিলেন। তবে কেন তিনি এ দুটি সিনেমায় পরবর্তীতে অভিনয় করেননি, সেই ব্যাখ্যা দেয়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনি পডকাস্টে।

অভিনেত্রী জানিয়েছেন যে, তার ক্যারিয়ারের প্রথম সিনেমা ‘এ জীবন তোমার আমার’র নায়িকা হিসেবে পরিচালক জাকির হোসেন রাজুর প্রথম পছন্দ তিনি ছিলেন না। অন্য একটি নায়িকা সিনেমাটি না করার পর পূর্ণিমাকে কাস্ট করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটক পাকিস্তানি-ইরানি নাবিকদের দ্রুত প্রত্যাবাসন চায় ইসলামাবাদ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোয়াখালীতে তরমুজের ‘সবুজ বিপ্লব’, ৫০০ কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২৬ ইং

০২:১৭ পি.এম


নোয়াখালীতে তরমুজের ‘সবুজ বিপ্লব’, ৫০০ কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে এবার ঘটেছে তরমুজের ‘সবুজ বিপ্লব’। অনাবাদী জমিতে তরমুজের বাম্পার ফলনে কৃষকদের মুখে দেখা যাচ্ছে হাসি। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব না পড়ে, তবে এই বছর জেলায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। সঠিক পরিকল্পনা এবং বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হলে এই মৌসুমি ফলকে কেন্দ্র করেই পাল্টে যেতে পারে স্থানীয় অর্থনীতির চিত্র।

একসময় সুবর্ণচরের যেসব জমি অনাবাদী হয়ে থাকত, সেখানে আজ শোভা পাচ্ছে রসালো তরমুজ। উৎপাদন ব্যয় কৃষকের নাগালের মধ্যে থাকার পাশাপাশি উন্নত কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বেলে-দোআঁশ মাটির উর্বরতার কারণে এই অঞ্চলে তরমুজ চাষে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে সুবর্ণচরের তরমুজ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হচ্ছে।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সুবর্ণচরের মূল ভূখণ্ডে প্রায় ৯০০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ করা হয়েছে। এছাড়া চর গাসিয়া, ইসলাম চর ও স্বর্ণদ্বীপসহ নতুন জেগে ওঠা বিভিন্ন চরাঞ্চলেও ব্যাপকভাবে তরমুজ চাষ করা হয়েছে। মাঠজুড়ে এখন ড্রাগন কিং, জেব্রা কিং, ব্ল্যাক জায়ান্ট, বাংলালিংক ও ভিক্টর সুগারসহ বিভিন্ন উচ্চফলনশীল জাতের তরমুজ দেখা যাচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, কম সময়ে ভালো লাভ হওয়ার কারণে অনেক চাষি এখন ইরি-বোরো ধানের পরিবর্তে তরমুজ চাষে ঝুঁকছেন। আবহাওয়ার অনুকূল পরিস্থিতি এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ার কারণে তাঁরা আশাবাদী।

সুবর্ণচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেন, ‘সুবর্ণচর ও পার্শ্ববর্তী চরাঞ্চলে চলতি মৌসুমে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে তরমুজ সংগ্রহ ও বাজারজাত শুরু হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ বাণিজ্যের মাধ্যমে এলাকার কৃষকদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফিরবে।’

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে সুবর্ণচর খুব শিগগিরই দেশের অন্যতম বৃহৎ কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ‘তরমুজের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিতি পাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফেনীতে ৭ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ কার্যক্রম শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২৬ ইং

০২:২২ পি.এম


ফেনীতে ৭ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ কার্যক্রম শুরু

 জেলার সদর উপজেলার ধলিয়া ও লেমুয়া ইউনিয়নের সংযোগ সড়কটি প্রশস্তকরণের কাজ আজ থেকে শুরু হয়েছে।

শনিবার সকালে ফেনী সদর আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন ভিপি সংযোগ সড়ক প্রশস্তকরণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রায় ৭ কিলোমিটার সড়কটি ১২ ফুট থেকে ১৮ ফুটে প্রশস্ত ও শক্তিশালীকরণে উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর।

চট্টগ্রাম বিভাগের উপজেলা এবং ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ এবং শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আওতায় ১৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যায়ে কাজটি বাস্তবায়ন করবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মিজান এন্ড মীর হোসেন জেবি। ২০২৭ সালের ১৯ আগস্ট কাজটি শেষ করার সময় সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা নাসরিন কান্তা, উপজেলা প্রকৌশলী দীপ্ত দাশ গুপ্ত, জেলা বিএনপি’র সদস্য কামরুল হাসান মাসুদ ও আবুল খায়ের লিংকন, সদর উপজেলা আহ্বায়ক ফজলুর রহমান বকুল, সদস্য সচিব আমান উদ্দিন কায়সার সাব্বির, যুগ্ম-আহবায়ক তপন কর, পৌর আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন বাবুল, ধলিয়া ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক নুর নবী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক এসএম কায়সার এলিন, পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জয়নাল আবদীন বলেছেন, সড়কের কাজটি ঠিকমতভাবে শেষ করতে এলাকাবাসীর সহযোগীতা প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, কেউ যেন চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি করতে না পারে এ ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। সড়কটির কাজ সফলভাবে শেষ হলে এলাকাবাসীর যাতায়াতের সুবিধা বাড়বে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
সিএনএনের বিশ্লেষণ

জ্বালানি ইস্যুতে চীন-রাশিয়া-ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২৬ ইং

০২:২৩ পি.এম


জ্বালানি ইস্যুতে চীন-রাশিয়া-ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর সৃষ্ট জ্বালানি সংকট এখন বৈশ্বিক ভূরাজনীতির নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে।

হরমুজ প্রণালি ঘিরে সংকট, যুদ্ধবিরতি এবং জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্ররাই এখনও বিকল্প পথ খুঁজতে বাধ্য হচ্ছে। আর এতে লাভবান হচ্ছে ওয়াশিংটনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীরা।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, যার শর্ত ছিল হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া। এই প্রণালিপথ দিয়ে বিশ্বে মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রাথমিক বিমান হামলার পর ইরান কার্যত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ করে দেয়, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা হয়ে আসে।

ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে ইউরোপ ও এশিয়ার মিত্র দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র আগাম জানায়নি বা অংশগ্রহণের আহ্বানও জানায়নি। তবে তেলের দাম বেড়ে গেলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিত্রদের সমালোচনা করে বলেন, যারা জ্বালানি চায়, নেতৃত্ব দিয়ে তাদেরই ‘নিজেদের তেল নিজেরাই সংগ্রহ’ করা উচিত।

এই বার্তাই এখন বাস্তবে প্রতিফলিত হতে দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে। কারণ, এই অঞ্চলের দেশগুলো হঠাৎ করেই তাদের প্রধান জ্বালানি আমদানি উৎস হারিয়েছে এবং বৈশ্বিক তেল সংকটের প্রথম ধাক্কা সেখানেই লেগেছে।

তেল ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র জাপান, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও ফিলিপাইন ইতোমধ্যে ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা শুরু করেছে। একই সঙ্গে অনেক দেশ রাশিয়া থেকে আরো বেশি জ্বালানি কিনছে।

অন্যদিকে, চীন সংকট মোকাবিলায় সহায়তার ইঙ্গিত দিয়ে অস্ট্রেলিয়া, ফিলিপাইন এমনকি তাইওয়ানের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে।

গত মঙ্গলবার, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন, যার অন্যতম শর্ত ছিল হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা। এতে তেলের দাম বৃদ্ধির চাপ কিছুটা কমার আশা করা হলেও বাস্তব প্রভাব এখনো স্পষ্ট নয়।

যুক্তরাষ্ট্র প্রণালি খুলে দেওয়ার সাফল্যের কথা বললেও ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির মধ্যেও তাদের সামরিক বাহিনী জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করবে এবং যুদ্ধ শেষ হয়নি বলেও সতর্ক করেছে। যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও প্রণালিপথ দিয়ে খুব অল্পসংখ্যক তেলবাহী জাহাজ চলাচল করছে, যেখানে যুদ্ধের আগে এটি ছিল সম্পূর্ণ উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক নৌপথ।

বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ এবং যুদ্ধবিরতির প্রভাব জ্বালানি বাণিজ্য ও আঞ্চলিক জোট ব্যবস্থাকে নতুন করে সাজিয়ে দিয়েছে, যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে যুক্তরাষ্ট্র-এশিয়া সম্পর্কেও।

অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি সিডনির অধ্যাপক রক শি বলেন, ‘এই সংকট যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা নিয়ে একটি কঠিন বাস্তবতা সামনে এনেছে। দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও তারা বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি নৌপথ বন্ধ হওয়া ঠেকাতে পারেনি। এখন এশিয়ার মিত্ররা ভাবছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছাতা আদৌ জ্বালানি সরবরাহ পথ পর্যন্ত বিস্তৃত কি না।’

তার মতে, এশিয়ার দেশগুলো এখন জ্বালানি উৎস বৈচিত্র্যময় করার দিকে গুরুত্ব দেবে। যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছ থেকেও তেল-গ্যাস কেনা তালিকায় থাকবে।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই সংকট একদিকে যুক্তরাষ্ট্র-এশিয়া জোটকে শক্তিশালী করছে, অন্যদিকে চাপও তৈরি করছে। মিত্ররা এখন ভারসাম্য রক্ষার কৌশল হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কিনবে, আবার নিজেদের সক্ষমতাও বাড়াবে।’

ইরান যুদ্ধের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে এশিয়ায়। জ্বালানি সাশ্রয় এবং নতুন উৎস নিশ্চিত করতে দেশগুলো ছুটছে। তবে গবেষকদের মতে, বিভিন্ন দেশের প্রতিক্রিয়ায় তাদের দুর্বলতা ও সক্ষমতার পার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে।

ফিলিপাইন প্রথম দেশ হিসেবে ‘জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করে। দেশটি পাঁচ বছর পর প্রথমবারের মতো রাশিয়া থেকে তেল আমদানি শুরু করেছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিজেদের জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করছে এবং দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে বিরোধ থাকা সত্ত্বেও চীনের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা পুনরায় শুরু করেছে।

জাপানের কাছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কৌশলগত তেল মজুদ রয়েছে, গত মাসে রেকর্ড পরিমাণ মজুদ তেল বাজারে ছেড়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানিয়েছেন, তিনি ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নিচ্ছেন। একই সময়ে জাপানের গণমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, দেশটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি জাহাজ ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়াও ইরানে বিশেষ দূত পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে, যাতে তাদের জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা যায়। এর আগে তারা কাজাখস্তান, ওমান ও সৌদি আরবে দূত পাঠিয়ে তেল ও ন্যাফথা সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সুযোগে চার বছর পর প্রথমবারের মতো রাশিয়া থেকে ন্যাফথা আমদানি করেছে দেশটি।

অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিবিদ রবার্ট ওয়াকার বলেন, ‘প্রতিটি দেশের পদক্ষেপ নির্ভর করছে তাদের কূটনৈতিক সক্ষমতা, প্রভাব ও কতটা জরুরি তার ওপর।’ তার মতে, চীন দ্রুত ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারায় সংকটের শুরুতেই নিজেদের জাহাজ নিরাপদে পার করতে সক্ষম হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউটের জন কয়েন সতর্ক করে বলেন, রাশিয়ার তেল আমদানি বাড়ানো বা ইরানের সঙ্গে সরাসরি চুক্তি করা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিত্রদের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, ‘এখানে অনেক অনিশ্চয়তা রয়েছে—ইরান কি এই তেল অন্য দেশে পাঠাতে দেবে? আর যুক্তরাষ্ট্র সেটিকে কীভাবে দেখবে?’

এই চাপ শুধু এশিয়ায় সীমাবদ্ধ নয়। ফ্রান্স ও ইতালিও নিজেদের জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করছে। অন্যদিকে, ইরান পাল্টা হামলায় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনের মতো মার্কিন মিত্র দেশগুলোর সামরিক ঘাঁটি ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে।

জ্বালানি সংকটে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছে রাশিয়া ও ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে আগে তাদের তেল খাত চাপের মুখে ছিল। কিন্তু সংকটের কারণে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি বদলে গেছে।

মার্কিন প্রশাসন এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত কিছু জ্বালানি পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করায় শুধু মার্চ মাসেই রাশিয়ার অতিরিক্ত ৩.৩ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার আয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একই সময়ে বিশ্লেষণ বলছে, যুদ্ধের আগে ইরান যেখানে ব্যারেল প্রতি ৪০-৪৫ ডলার দরে দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেল তেল বিক্রি করত, এখন তা বেড়ে ১৭ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে। আর দাম ছাড়িয়েছে ১০০ ডলার। এছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য যদি প্রতিটি জাহাজ থেকে ২০ লাখ ডলার করে নেওয়া হয়, তবে সাপ্তাহিক প্রায় ৬ কোটি ডলার আয় হতে পারে।

এই সংকটে পরোক্ষভাবে লাভবান হতে পারে আরেক পরাশক্তি চীন। বড় তেল মজুত, স্থলভিত্তিক পাইপলাইন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে অগ্রগতির কারণে চীন এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশি স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে।

দেশটি জ্বালানি রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করলেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। এমনকি তাইওয়ানকে জ্বালানি নিরাপত্তার প্রস্তাব দিয়ে শান্তিপূর্ণ একীকরণের ইঙ্গিতও দিয়েছে। পাশাপাশি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও বৈদ্যুতিক যানবাহন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর কথা বলেছেন।

বিশ্লেষক রক শি মনে করেন, ‘চীন চাইলে এশিয়ার জ্বালানি ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে। যদি তারা সুস্পষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরে, তাহলে পুরো অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক মানচিত্রই বদলে যেতে পারে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে আটক ২৬ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২৬ ইং

০২:২৭ পি.এম


রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে আটক ২৬ জন

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পৃথক অভিযানে ২৬ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের আটক করা হয় গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে নগরীর বিভিন্ন থানা ও ডিবি পুলিশের অভিযানের মাধ্যমে।

আজ দুপুরে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। এদের মধ্যে ওয়ারেন্টভুক্ত ৮ জন, মাদক মামলায় ২ জন এবং অন্যান্য মামলায় ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জ্বিলকদ, ১৪৪৭হিঃ
ফজর ০৩:৫৮
জোহর ১১:৫৬
আসর ০৪:৩২
মাগরিব ০৬:৩০
ইশা ০৭:৪৭
সূর্যোদয় : ০৫:২০ সূর্যাস্ত : ০৬:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%