প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, অর্থনৈতিকভাবে নারীদের স্বাবলম্বী করতে প্রশিক্ষণ বা সনদ প্রদানের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ না থেকে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, নারীদেরকে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ, ব্যবসা শুরুর জন্য প্রারম্ভিক মূলধন (সিড মানি) এবং প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আওতায় নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতিগুলোর মধ্যে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে মাঠপর্যায়ের পারফরম্যান্স ও দক্ষতার মূল্যায়নের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সমিতি ও সংস্থাগুলোকে সরকারি অনুদান ও সহায়তা প্রদান করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর লক্ষ্য এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে সবাই ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের সামগ্রিক কল্যাণে কাজ করবে। সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ধর্ম, বর্ণ, পাহাড়ি-সমতল এবং রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে নাগরিকদের সমান অধিকার ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ইস্যু করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া মানুষের কাছে রাষ্ট্রীয় সহায়তা স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া হবে।
উদ্যোক্তা তৈরি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, জেলা পর্যায়ের ট্রেনিং সেন্টারগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ করে অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গরূপে সচল করা হবে। তিনি প্রশিক্ষণ শেষে সব প্রশিক্ষণার্থীর বিস্তারিত তথ্য এমআইএস-এ যথাযথভাবে সংরক্ষণের নির্দেশ দেন।
মন্ত্রী জানান, বিশ্বব্যাপী দ্রুত বিকাশমান ‘কেয়ার ইকোনমি’তে নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে জেলা পর্যায়ে আধুনিক ‘কেয়ার গিভিং’ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই সঙ্গে সেবা কার্যক্রম দ্রুততর করতে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের বিদ্যমান শূন্য পদগুলোতে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করার আশ্বাস দেন তিনি।
এ সময় সমাজে নারী ও শিশু নির্যাতন, যৌতুক প্রথা এবং বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি নির্মূলে সর্বস্তরের জনগণকে নিয়ে একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে সাধারণ অনুদান হিসেবে তিনটি ক্যাটাগরিতে ৩ হাজার ১৮০টি সমিতিকে ৮ কোটি ১৫ লাখ ২ হাজার ৬০০ টাকা, ঘূর্ণায়মান অনুদান হিসেবে ৪০টি জেলার ৭০টি সমিতিকে ৩৫ লাখ টাকা এবং স্বেচ্ছাধীন অনুদান হিসেবে ২১টি জেলার ৬৯টি সমিতিকে ২৩ লাখ ৯৪ হাজার ৩০০ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব ড. রওশন আরা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির অনুদান বিতরণ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এলিজা জামান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শায়লা শার্মিন জামান। এছাড়াও সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহ্বুবসহ মন্ত্রণালয়, অধীনস্থ দপ্তর-সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন