প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর উৎসবমুখর পরিবেশে সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটাভুটির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে যাচ্ছে। গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা সব সংসদ সদস্যকে যথাসময়ে উপস্থিত হয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সংসদ ভবনে আয়োজিত বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশ প্রদান করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির দলীয় রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী, মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সভায় উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্য এই বিষয়টি কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদীয় সভার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সংসদীয় সহকর্মীদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান। বক্তৃতার সময় তিনি আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন এবং নতুন দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনে সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীও তার রাজনৈতিক জীবনের ভূয়সী প্রশংসা ও অবদানের কথা স্মরণ করেন।
শারীরিক অসুস্থতার কারণে ভোটপ্রক্রিয়া থেকে ছুটি চেয়েছেন দুই সংসদ সদস্য। তারা হলেন চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস এবং অসুস্থতার কারণে চিকিৎসাধীন চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনের সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিন বিকাল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের নবম তলায় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠক শুরু হয় এবং শেষ হয় ৪টা ৪০ মিনিটে। সংসদীয় দলের এই বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদ প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এই প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় ভোটাভোটির আয়োজন। এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি ও সমমনা দলের মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির মহাসচিব স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অপর প্রার্থী হয়েছেন জামায়াতসহ ১১ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্ণেল অলি আহমেদ। আগামী শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।
একজন সদস্য কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দলের মহাসচিব আজকের সভায় বিদায়ী বক্তব্য দিয়েছেন এবং তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘গণতন্ত্রের সৌন্দর্য্য ভোট। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবাইকে যথা সময়ে ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট প্রয়োগ করার নির্দেশনা দিয়েছেন।’
অপর এক সংসদ সদস্য কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিব সভায় আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মীদের কাছ থেকে বিদায় নেন তিনি। আবেগঘন কণ্ঠে জানানো হয়েছে যে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পাওয়া তার জীবনের বড় পাওয়া। তিনি দেশ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে কাজ করতে চান। দেশের ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে দায়িত্ব পালন করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। এই দায়িত্ব যেন সঠিকভাবে পালন করতে পারেন, সেই জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন মহাসচিব।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বক্তব্য দেওয়ার সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার কথাও স্মরণ করেন এবং আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। সভা চলাকালিন পুরো সময়টাই তিনি আবেগপ্রবণ ছিলেন বলেও জানান ওই সংসদ সদস্য।
জাতীয় সংসদের এক সদস্য বলেন, মহাসচিব বক্তব্যে বলেছেন, ‘হয়তো আপনাদের সঙ্গে আর রাজনীতির মাঠে দেখা হবে না। এটা আমার জন্য খুবই কষ্টদায়ক হবে।’ এ কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীও বিএনপি মহাসচিবের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক স্মরণ করেন এবং বক্তব্য দেন।
সভায় উপস্থিত কয়েকটি সূত্র জানায়, বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় সংসদ সদস্যরা কিভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন সে বিষয়টি চীফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি প্রয়োজনীয় দিক তুলে ধরেন এবং সব সংসদ সদস্যকে সময়মতো উপস্থিত হয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়।
বিকেলে সংসদ ভবনে বিএনপির সংসদীয় দলের সভা শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে। তিনি বলেন, ‘৩৫ বছর পর বৃহস্পতিবার দুপুরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেব, ইনশাআল্লাহ। ২টা থেকে ভোট শুরু হবে এবং চলবে ৫টা পর্যন্ত।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, নির্বাচন শুরু হওয়ার ৫ মিনিট আগে ভোটের লাইভ টেলিকাস্ট হবে। রাষ্ট্রপতি, স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা এবং আমাদের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেব, তারা ভোট দেবেন; সেটা লাইভ দেখানো হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারপর সব রেকর্ড করা হবে। নির্বাচন শেষ হবার পাঁচ মিনিট আগে লাইভ টেলিকাস্ট শুরু হবে এবং এরপর ফলাফল ঘোষণাও লাইভ হবে। আপনারা দেখবেন, আগামীকাল একটি ইতিহাসের মাহেন্দ্রক্ষণ তৈরি হবে এবং ইতিহাসের গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু হবে।’
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মোট ভোটারের সংখ্যা ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। সর্বশেষ ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর সংসদ সভা কক্ষে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট গ্রহণ হয়েছিল। ওই সময়ে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আব্দুর রহমান বিশ্বাস এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন বদরুল হায়দার চৌধুরী। ১১তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বদরুল হায়দার চৌধুরীকে (৯২ ভোট) পরাজিত করে ১১তম রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন আব্দুর রহমান বিশ্বাস, যিনি ভোট পেয়েছিলেন ১৭২ ভোট।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন