প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করার বিষয়ে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছানোর খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে। এ পরিবর্তনের ফলে তেলের দাম মার্চের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে এসেছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, সোমবার (১৫ জুন) ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৫৮ ডলার বা ৪ দশমিক ১০ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৮৩ দশমিক ৭৫ ডলারে নেমে এসেছে।
একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ দশমিক ০১ ডলার বা ৪ দশমিক ৭২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৮০ দশমিক ৮৭ ডলারে। এর আগে শুক্রবারও দুই ধরনের তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছিল।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করবে। এদিকে ট্রাম্প রোববার বলেন, হরমুজ প্রণালীকে 'টোলমুক্ত' করা হবে এবং ইরানের বন্দরের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধও প্রত্যাহার করা হবে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর জানিয়েছে, খসড়া চুক্তিতে ইরানের পর্যবেক্ষণে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, অপরিশোধিত তেলের দামের সাথে যুক্ত ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির অতিরিক্ত মূল্য এখন দ্রুত কমতে শুরু করেছে। কারণ ব্যবসায়ীরা তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনাকে বাজারদরে মূল্যায়ন করছেন।
অন্যদিকে, তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে বিপুল পরিমাণ তেল এবং গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এই প্রণালি বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করে।
এখন বিনিয়োগকারীদের নজর মধ্যপ্রাচ্যের উৎপাদক দেশগুলোর দিকে, তারা কত দ্রুত উৎপাদন ও রফতানি পুনঃস্থাপন করতে পারে এবং এ অঞ্চলে জাহাজ চলাচল কত দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে, সে দিকেও।
কমনওয়েলথ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়ার পণ্য বিশ্লেষক বিবেক ধর একটি নোটে বলেছেন, এসব অনিশ্চয়তা বছরের শেষে ব্রেন্ট তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বমুখী ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়। তবে যুদ্ধের পূর্ববর্তী অতিরিক্ত সরবরাহ পরিস্থিতিতে বলা হয়েছে যে, বাজারকে ফিরিয়ে আনতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের প্রবাহ ৬০ থেকে ৭০ শতাংশে পৌঁছালেই যথেষ্ট হবে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদী জানিয়েছেন, ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির সময় আরও বিস্তৃত একটি চুক্তির আলোচনা করা হবে।
এদিকে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি এবং ইতালিসহ ই-৪ দেশগুলো রোববার জানিয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে অগ্রগতি হলে তারা দেশটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে প্রস্তুত।
তবে আইজির বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোর মনে করেন, আগামী ৬০ দিনের আলোচনা, বিশেষ করে পারমাণবিক ইস্যু ঘিরে এখনও যথেষ্ট অনিশ্চয়তা বিদ্যমান। তাই অদূর ভবিষ্যতে তেলের দাম বর্তমান অবস্থান থেকে খুব বেশি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা সীমিত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন