প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফিজি সরকার বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়ার এক ধনকুবেরের প্রস্তাবিত বর্জ্য পোড়ানোর বড় প্রকল্প। স্থানীয় বাসিন্দা, ঐতিহ্যবাহী জমির মালিক এবং পর্যটন খাতের তীব্র বিরোধিতার মুখে চলতি পরিবেশ মন্ত্রণালয় অবশেষে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই প্রস্তাব অনুযায়ী, ফিজিতে এনে অঞ্চলজুড়ে পুনর্ব্যবহারযোগ্য নয় এমন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য পোড়ানোর পরিকল্পনা ছিল। এজন্য একটি বিশাল ‘ওয়েস্ট-টু-এনার্জি’ প্ল্যান্ট করতে এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন একটি বন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র নাদি শহরের কাছাকাছি, প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে এই স্থাপনাটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল।
এদিকে, স্থানীয়দের একাংশ শুরু থেকেই এই পরিকল্পনাকে ‘বর্জ্য উপনিবেশবাদ’ হিসেবে সমালোচনা করছিল। জাতিসংঘে নিযুক্ত ফিজির রাষ্ট্রদূত ফিলিপো তারাকিনিকিনি সতর্ক করে বলেন, ‘ভুদা উপকূলকে প্রশান্ত মহাসাগরের ছাইদানি বানানো যাবে না।’
ফিজির পরিবেশ মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে, প্রকল্পটির আকার, বিদেশি বর্জ্য আমদানি, বিপজ্জনক ছাই ব্যবস্থাপনা এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি নিয়ে তাদের কাছে বড় ধরনের উদ্বেগ ছিল। পাশাপাশি, পরিবেশগত প্রভাব, পর্যটন শিল্পের ক্ষতি এবং কোম্পানির দেওয়া অর্থনৈতিক কার্যকারিতা সম্পর্কেও তথ্য সন্তোষজনক ছিল না।
দেশটির পরিবেশ সচিব সিভেন্দ্র মাইকেল বলেন, এটি বিনিয়োগ বা নতুন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নয়। প্রকল্পের সম্ভাব্য ঝুঁকি যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।
প্রকল্পটির উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে দ্য নেক্সট জেনারেশন হোল্ডিংস (টিএনজি)। অস্ট্রেলীয় ব্যবসায়ী ইয়ান মালুফ এবং ফ্যাশন উদ্যোক্তা রব ক্রম্ব দাবি করেছিলেন, এই প্রকল্প চালু হলে ফিজির বিদ্যুতের চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হবে এবং ডিজেলের ওপর নির্ভরতা কমবে।
তবে জমা দেওয়া পরিবেশগত প্রভাব প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রকল্পটি চালু হলে দেশের মোট কার্বন নিঃসরণ প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এতে দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ইকো-ট্যুরিজমের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি, আশপাশে থাকা হোটেল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে।
এমন একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, উদ্যোক্তা ইয়ান মালুফ এর আগে সিডনিতে একই ধরনের একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু মানবস্বাস্থ্যের ঝুঁকির কারণে ২০১৮ সালে সেটিও বাতিল করে দেওয়া হয়েছিল।
ফিজি সরকারের এই সিদ্ধান্ত বহু মানুষের কাছে পরিবেশ রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন