প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জামালপুরের ইসলামপুরে লাগেজবন্দী অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নিহতের নাম নায়েব আলী (৩৫), তিনি মেলান্দহ উপজেলার কাজাইকাটা এলাকার বাসিন্দা। পেশায় অটোরিকশাচালক হিসেবে পরিচিত ছিলেন নায়েব আলী। ইসলামপুরে চরপুটিমারী ইউনিয়নের বেনুয়ারচর এলাকায় মঙ্গলবার (২৩ জুন) অর্ধগলিত লাগেজবন্দি মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
মরদেহটি অর্ধগলিত অবস্থায় দেখে প্রথমে কেউ চিনতে পারেননি। ২১ জুন নিখোঁজ হওয়ার পর নায়েব আলীর পরিবারও প্রথমে তাকে শনাক্ত করতে পারেনি।
মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর পিবিআই তদন্ত শুরু করে। তারা গলিত লাশের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করলেও জাতীয় পরিচয়পত্রের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এরপর তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন শুরু হয়।
নিহত নায়েব আলী ২১ জুন তার বাড়ি থেকে বেরিয়ে ভোর ৪ টায় এক ট্রেন যাত্রীকে মেলান্দহ স্টেশনে পৌঁছে দেন। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখোজি করে না পেয়ে ২২ জুন মেলান্দহ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তার ছেলে মমিনুল।
পিবিআই সাধারণ ডায়েরির সূত্র ধরে নিহতের পরিবারের সদস্যদের পুনরায় শনাক্তকরণের জন্য মর্গে নিয়ে যান। তখন তার পরনের কাপড় ও শরীরে থাকা তাবিজ দেখে স্বজনরা লাশ শনাক্ত করেন।
পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ধরতে তদন্ত শুরু করে পিবিআই। জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেছেন, হত্যাকাণ্ডের তদন্তের সময় প্রথমে নাহিদুল ইসলামের ওপর নজর দেওয়া হয়। পরে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নিহতের মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে নাহিদুল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যদের গ্রেফতার করা হয় এবং নিহতের অটোরিকশার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়। যন্ত্রাংশগুলো আলাদা আলাদা স্থানে বিক্রি করা হয়েছে।
গ্রেফতারদের মধ্যে রয়েছে, মেলান্দহ উপজেলার নাহিদুল ইসলাম (৩০), সোলাইমান (৫০), শফিকুল ইসলাম (৪১), আবদুল কাদের (৫৪), রাসেল হোসেন (৩৪) এবং সাগর পাশা (২৬)।
নাহিদুল জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন। তিনি জানান তার ১০ হাজার টাকা প্রয়োজন ছিল। টাকা সংগ্রহের জন্য নাহিদুল তার কিছু বন্ধুদের সঙ্গে মিলে রিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনার অনুযায়ী, নায়েব আলীকে তার অটোরিকশা ভাড়ার কথা বলে মেলান্দহে নিয়ে গিয়ে সেখানে একটি ঘরে গলায় জিআই তার পেঁচিয়ে হত্যা করেন। পরে তার মরদেহ একটি ড্রামে রেখে দেন। এই সময় অটোরিকশা বিভিন্ন যন্ত্রাংশে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে দেন। ২২ জুন ভোরে ইসলামপুরের বেনুয়ারচর এলাকার মাছের ঘেরে মরদেহটি ফেলে রাখেন।
এই ঘটনায় নিহতের ছেলে মমিনুল বাদি হয়ে ইসলামপুর থানায় হত্যার মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেফতার হওয়া ছয়জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন