প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাদক পাচারের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে দায়ের করা ফৌজদারি মামলায় ভেনেজুয়েলার অপসারিত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিচার, ২০২৭ সালের জুনে শুরু করার প্রস্তাব উভয় পক্ষ দিয়েছে।
মঙ্গলবার আদালতে জমা দেওয়া এক যৌথ নথিতে মাদুরোর আইনজীবী এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রসিকিউটররা এই প্রস্তাব দেন। নথিতে মামলার পরবর্তী ধাপগুলোর একটি সম্ভাব্য সময়সূচিও তুলে ধরা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত বিচার কবে শুরু হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবেন মামলার দায়িত্বে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের জেলা আদালতের বিচারক অ্যালভিন হেলারস্টেইন।
মাদুরোর মামলার পরবর্তী শুনানি আজ বুধবার দুপুর ১২টায় (যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময়) নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই শুনানির আগেই উভয় পক্ষ আদালতে যৌথভাবে এই সময়সূচির প্রস্তাব জমা দেয়।
আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে এই সময়সূচিতে পরিবর্তনের আবেদন করতে পারবে দুই পক্ষই। প্রস্তাবিত সময়সূচি অনুযায়ী, মামলাটি খারিজের জন্য মাদুরোর প্রথম দফার আইনি আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২ সেপ্টেম্বর।
ধারণা করা হচ্ছে, ওই আবেদনে মাদুরোর আইনজীবীরা দাবি করবেন, তিনি একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রধান ছিলেন। তাই আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় তার বিচার থেকে আইনি সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এই যুক্তিতে মামলাটি খারিজের আবেদন জানানো হতে পারে। এরপর প্রসিকিউটররা প্রতিরক্ষা পক্ষকে গোপন নথি পর্যালোচনার সুযোগ দেওয়ার পর মাদুরো আগামী ১১ জানুয়ারির মধ্যে দ্বিতীয় দফার আইনি আবেদন জমা দেবেন।
গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী এক রাতের অভিযানে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে। পরে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচার করতে নিউইয়র্কে নিয়ে আসা হয়। মাদুরো ও তার স্ত্রী দুজনই আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।
২০১৩ সাল থেকে আটক হওয়ার আগ পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার ক্ষমতায় ছিলেন সমাজতান্ত্রিক নেতা নিকোলাস মাদুরো। তার শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। গত ৫ জানুয়ারি আদালতে প্রথম হাজিরার সময় মাদুরো নিজেকে 'যুদ্ধবন্দী' বলে দাবি করেন। দীর্ঘদিন ধরে মাদুরো অভিযোগ করে আসছেন যে, ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলসম্পদের ওপর আরো বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই যুক্তরাষ্ট্র তাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চেয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, মাদুরো একজন দুর্নীতিগ্রস্ত স্বৈরশাসক। ওয়াশিংটনের দাবি, তার সরকারের অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার কারণে ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি মারাত্মক সংকটে পড়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করেছে, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট কারচুপি করে ক্ষমতায় ছিলেন মাদুরো। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাকে ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে আর স্বীকৃতি দেয় না।
বর্তমানে নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের একটি ফেডারেল কারাগারে রাখা হয়েছে। সেখানে থেকেই তারা মামলার আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন