প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি একটি মন্তব্যধর্মী প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ইরানের সামনে বর্তমানে পারমাণবিক বোমা তৈরি করা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। এই মন্তব্যটি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন কয়েক সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি প্রাথমিক সমঝোতার আওতায় তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছে।
গত রোববার (২৮ জুন) প্রকাশিত ফার্স নিউজের বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধে বলা হয়েছে, কার্যকর আলোচনায় বসার আগে ইরানকে অবশ্যই নিজের কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
প্রতিবেদনটিতে প্রকাশিত হয়েছে, ‘ইরানের প্রয়োজনীয় শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জনের জন্য দেশটির পারমাণবিক প্রতিরোধ সামর্থ্য অর্জন করা একান্ত প্রয়োজন। এতে অন্যান্য অমীমাংসিত বিষয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ সুগম হবে।’
নিবন্ধে বর্তমান ইরানের পরিস্থিতিকে শীতল যুদ্ধের সময় চীনের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র একসময় চীনকে পারমাণবিক হামলার হুমকি দিয়েছিল। কিন্তু চীন পারমাণবিক বোমা তৈরির পর যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার গোপনে বেইজিং সফর করেছিলেন এবং দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘পারমাণবিক প্রতিরোধের অর্থ যুদ্ধ আগানো নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মতো পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশের মধ্যে শক্তির ভারসাম্য তৈরি করা, যাতে সংঘাত নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।’
ফার্স নিউজের এই আন্তর্জাতিক অবস্থান সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া প্রাথমিক সমঝোতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
দীর্ঘ কয়েক মাসের সামরিক উত্তেজনা ও কূটনৈতিক আলোচনার পর সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকে ইরান নীতিনির্ধারকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকার করে।
এছাড়াও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) তদারকি পুনরায় চালুর বিষয়ে নীতিগত সম্মতিও দেয়, যাতে ভবিষ্যতে একটি বিস্তৃত চুক্তির জন্য পথ প্রস্তুত হয়।
তবে এরপর থেকে ইরান এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে, আইআইএ পরিদর্শকরা কবে আবার ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোতে প্রবেশ করে পরিদর্শন শুরু করতে পারবেন, তা নিয়ে এখনো সুষ্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি গত শুক্রবার বলেন, শুধুমাত্র ইরানের মৌখিক ঘোষণা যথেষ্ট নয়; বাস্তব যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে যে দেশটি চুক্তির শর্তগুলি মেনে চলছে।
তার বক্তব্যে উল্লেখ রয়েছে, ‘ইরান সরকার স্পষ্টভাবে বলেছে যে তাদের ইচ্ছা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা নয়। তবে শুধু উদ্দেশ্য ঘোষণা করলেই হবে না, তা বাস্তবে প্রমাণিত হতে হবে।’
চলমান আলোচনার প্রেক্ষাপটে আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত পরমাণু বোমা সম্পর্কিত মন্তব্য ইরানের অভ্যন্তরে পারমাণবিক কর্মসূচির নিয়ে ইতিমধ্যেই চলমান বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে। একইসঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ইরানের প্রকৃত পরমাণবিক অভিপ্রায় নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন