প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা দিতে সিলেটের জকিগঞ্জের তরুণ মাহবুব সারওয়ার রাজন (২৫) ঢাকায় গিয়েছিলেন। পরীক্ষা শেষে উপবন এক্সপ্রেসে সিলেট ফেরার কথা থাকলেও, এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
নিখোঁজের দুই দিন পর হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার রেললাইনের পাশ থেকে পুলিশ রাজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত রাজন আবুল কালাম (কালু মিয়া)–এর ছেলে, সিলেটের জকিগঞ্জ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। মাত্র আট মাস আগে তিনি বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রাজন কয়েক দিন আগে সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে ঢাকায় যান। শুক্রবার পরীক্ষাটি শেষ হয়ে যাওয়ার পর তিনি উপবন এক্সপ্রেসে সিলেটের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা বলেছিলেন। সে সময় থেকে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোন সাড়া পাননি, ফলে তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
রাজনের বড় ভাই মাহবুব হাসান মুন্না জানান, ‘অনেক খোঁজাখুঁজির পর কোনো সন্ধান না পেয়ে আমরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা নিই।’
তিনি আরও বলেন, রবিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন অজ্ঞাত পরিচয়ের যুবকের মরদেহ উদ্ধারের খবর দেখে তাদের সন্দেহ হয়। পরে তারা নিশ্চিত হন, সেটি ছিল রাজনের মরদেহ।
পুলিশ জানায়, রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের দাশপাড়া এলাকায় রেললাইনের পাশ থেকে রাজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে নিশ্চিত হন সেটি রাজনের।
নিহতের চাচা কামরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘রাজনের মৃত্যু কিভাবে হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি রহস্যজনক।’ তিনি জানান, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাজনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সর্বশেষ অবস্থান রবিবার রাত প্রায় আড়াইটার দিকে হবিগঞ্জের বাহুবল এলাকায় পাওয়া গেছে। এটি থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ওই সময়ের মধ্যে তার সঙ্গে কোনো দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে।
এ ঘটনায় শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) নিরস্ত্র মো. রাশেদ পারভেজ ছায়িম। তিনি বলেন, ‘ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ অন্যান্য আলামত ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়।’
সিলেটের জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক জানান, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। প্রয়োজন হলে স্থানীয় পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন