প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপারমার্কেটগুলোতে গরুর মাংসের দাম বর্তমানে আকাশচুম্বী অবস্থায় রয়েছে। সাধারণ মূল্যস্ফীতিকে পেছনে ফেলে, গত এক বছরের ব্যবধানে এই মাংসের দাম প্রায় ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই অবস্থায় আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে যে দাম বৃদ্ধিতে খামারি ও ব্যবসায়ীরা ব্যাপক লাভবান হচ্ছেন। কিন্তু বাস্তবে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। সাউথ ডাকোটার প্রত্যন্ত এলাকার খামারি, শিকাগোর বিশাল প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা এবং স্থানীয় রেস্টুরেন্ট—এই তিনটি স্তরের সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এখন চরম আর্থিক সংকটে রয়েছে। রেকর্ড দামে মাংস বিক্রি করেও শেষ পর্যন্ত কারো পকেটেই বাড়তি টাকা নেই।
এই অচলাবস্থার মূল রহস্য গরুর তীব্র ঘাটতির মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে। খরা এবং বিভিন্ন দূরারোগ্য রোগের কারণে, যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরের শুরুতে গবাদি পশুর সংখ্যা ১৯৫১ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। পশুর সংখ্যা কমলে সাউথ ডাকোটার খামারিরা পশু নিলামে ঐতিহাসিক সর্বোচ্চ মূল্য পাচ্ছেন। যেমন, দুই বছর আগে যে বাছুরটির দাম ছিল ২০০০ ডলার, সেটি বর্তমানে ২৫০০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে।
কিন্তু এই বৃদ্ধি পেয়ে আসা আয় খামারি কিংবা পশুপালনকারীদের ঘরে ঠিকমতো রয়ে যায় না, কারণ পশুপালনের খরচও নতুন এক রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। মহামারী এবং খরার কারণে পশুখাদ্য, পানি, কাঠের খুঁটি বা বেড়ার কাঁটাতারের দাম দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ বেড়ে গেছে। খামারিরা বলছেন, বাজারে পশু বিক্রির যে রেকর্ড দাম রয়েছে, তা না থাকলে তাদের খামারগুলো চূড়ান্ত দেউলিয়া হয়ে যেত।
খামার থেকে বাছুরগুলো কিনে নিয়ে মোটাতাজা করার পর সেগুলি পাঠানো হয় মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় (মিটপ্যাকিং প্ল্যান্ট)। আমেরিকার প্রায় ৮৫ শতাংশ মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ করণে চারটি বড় প্রতিষ্ঠান যেমন টাইসন, জেবিএস, কারগিল ও ন্যাশনাল বিফের অধিকার রয়েছে।
সাধারণ ধারণার বিপরীতে এই কর্পোরেট জায়ান্টগুলো হয়তো বাজার থেকে বিশাল মুনাফা অর্জন করছে, কিন্তু চমকপ্রদ তথ্য হলো, চারটি মধ্যে সবচেয়ে বড় কোম্পানি ‘টাইসন’ চলতি বছরের প্রথমার্ধে গরুর মাংস বিক্রির ক্ষেত্রে ৫০০ মিলিয়ন বা ৫০ কোটি ডলারেরও বেশি লোকসান ভোগ করেছে। একদিকে তাদের জীবন্ত গবাদি পশুর জন্য রেকর্ড উচ্চ দামে ক্রয় করতে হচ্ছে, অন্যদিকে বাজারে মাংসের দাম অবাধে বাড়ানোর সুযোগ নেই, কারণ এর ফলে মার্কিন ভোক্তারা মুরগি কিংবা সস্তা আমদানি করা মাংসের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে।
সম্মুখীন হওয়া এই সমস্যার কারণে গবাদি পশুর অভাবে কারখানাগুলো তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করতে পারছে না, ফলে প্রতিটি পশুর পিছনে খরচও অনেক বেড়ে যাচ্ছে।
সরবরাহ শৃঙ্খলের শেষ প্রান্তে থাকা সুপারমার্কেট ও রেস্টুরেন্টগুলোর অবস্থাও একই। নেব্রাস্কার ওমাহায় একটি জনপ্রিয় বার্গার শপ ‘ব্লক ১৬’-এর মালিকদের মতে, মাংসের যে চড়া দাম, তাতে মুনাফা করতে গেলে বার্গারের দাম অনেক বাড়াতে হতো। কিন্তু গ্রাহকদের হারানোর ঝুঁকির কারণে তারা সেই পথে হাঁটছেন না, ফলে তাদের লাভের দিকে লক্ষ্য করে চলতে হচ্ছে।
তাহলে এত বৃহৎ পরিমাণ অর্থ কোথায় যাচ্ছে? অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণ বলছে, আসলে টাকা কারোর পকেটে জমছে না, উল্টো এক হাত থেকে অন্য হাতে স্থানান্তরিত হচ্ছে। পশুখাদ্য ও সরঞ্জামের উর্ধ্বমুখী দাম খামারিদের বাড়তি আয়ের অংশ নিয়ে নিচ্ছে; এবং খামারিদের থেকে চড়া দামে পশু কিনে প্রক্রিয়াজাতকারী ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীরা বাজারের পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে লোকসান ভোগ করছেন। এই দুরাবস্থা থেকে দ্রুত মুক্তির কোনো উপায় নেই। কারণ, একটি নতুন বাছুর জন্মানোর পর তা জবাইয়ের উপযোগী হতে কমপক্ষে তিন বছর সময় প্রয়োজন। ফলে মার্কিন বাজারে গবাদি পশুর যোগান স্বাভাবিক হতে এবং মাংসের বাজার স্থিতিশীল হতে আরও বেশ কয়েক বছর সময় লাগবে বলেই সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন