প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পশ্চিম তীরে বড় ধরণের বসতি প্রকল্প বন্ধের দাবি জানিয়ে যুক্তরাজ্য ইসরাইলের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। বুধবার ব্রিটেন এই পদক্ষেপটি নেয়, যখন ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ ওই এলাকায় ১ হাজার ২০০টির বেশি বাড়ি নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে।
গত বছর অনুমোদিত ই১ প্রকল্পটির কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক নিন্দা হয়েছে। সে সময় জাতিসংঘের মহাসচিব বলেছিলেন, প্রকল্পটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য একটি ‘অস্তিত্বের হুমকি’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
লন্ডন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, প্রকল্পটি পূর্ব জেরুজালেমকে পশ্চিম তীর থেকে আরও বিচ্ছিন্ন করে দেবে। উল্লেখ্য, পূর্ব জেরুজালেম ইসরাইল দখল করে নিয়েছে এবং সেখানে প্রধানত ফিলিস্তিনিরা বসবাস করে।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিলিব্যান্ড এই পদক্ষেপটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি আরও বলেন, এটি ‘দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে হুমকির মুখে ফেলবে’।
মিলিব্যান্ড এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইসরাইল সরকারকে অবিলম্বে ই১ প্রকল্প বন্ধ করতে হবে, দরপত্র প্রত্যাহার করতে হবে এবং সব ধরণের বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ করতে হবে।’ তিনি উল্লেখ করেছেন, তিনি ও ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সারকে সরাসরি এই বার্তা দিয়েছেন। সেইসঙ্গে তিনি ইসরাইলের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করেছেন।
ব্রিটিশ সরকার আগামী কিছু সপ্তাহের মধ্যে ‘ব্যাপক কিছু পদক্ষেপ’ ঘোষণা করবে। এর মধ্যে ‘অবৈধ বসতি সম্প্রসারণে’ জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টিও রয়েছে।
মিলিব্যান্ড বলেন, ‘দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান ধ্বংসের বিষয়টি ব্রিটেন নীরবে মেনে নেবে না।’
জেরুজালেমের ঠিক পূর্বে প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ই১ এলাকায় গত বছরের আগস্টে প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়া হয়। এই প্রকল্পের আওতায় সংবেদনশীল ওই এলাকায় প্রায় ৩ হাজার ৪০০ বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। উল্লেখ্য, এলাকাটি জেরুজালেম ও ইসরাইলি বসতি মালে আদুমিমের মাঝে অবস্থিত।
ইসরাইলি বেসরকারি সংস্থা পিস নাও জানিয়েছে, সর্বশেষ দরপত্রে ১ হাজার ২০০টির বেশি আবাসন ইউনিট রয়েছে। পিস নাও জানায়, ইসরাইলের আবাসন মন্ত্রণালয় ১৮ আগস্ট দরপত্র প্রকাশ করে এবং সঙ্গে সঙ্গে এতে দরপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ দেয়।
দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৯ অক্টোবর নির্ধারিত হয়েছে। এটা ইসরাইলে নির্ধারিত নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে হবে এবং আগামী ২৭ অক্টোবর দেশটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংস্থাটি বলেছে, এসব বাড়ি ই১ প্রকল্পের পরিকল্পিত উন্নয়নের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। নির্বাচনের আগে সরকার নির্মাণকাজের প্রতিশ্রুতি এগিয়ে নিতে এ উদ্যোগ নিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের চলাচলে ইসরাইল কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। পূর্ব জেরুজালেম বা ইসরাইলে প্রবেশের জন্য তাদের চেকপোস্ট পার হওয়ার অনুমতি নিতে হয়।
গত বছর ই১ প্রকল্প অনুমোদনের নিন্দা জানিয়েছিল যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সসহ ২১টি দেশ। তারা এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে এবং ইসরাইলের কাছে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
পূর্ব জেরুজালেম বাদে পশ্চিম তীরে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করছেন। সেখানে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীর সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন