প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাকিস্তানের একটি সন্ত্রাস দমন আদালত মানবাধিকার আইনজীবী ইমান মাজারি-হাজির এবং হাদি আলী চাটাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার পর অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দেশটির বিচারব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেছে। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, ভিন্নমত দমন ও মানবাধিকারকর্মীদের কণ্ঠরোধ করার জন্য সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার করা হচ্ছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের আঞ্চলিক মানবাধিকার বিষয়ক সিনিয়র ডিরেক্টর ইয়াসমিন আহমেদ এই দণ্ডাদেশকে পাকিস্তানের বিচার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অভিযোগ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন, মানবাধিকারকর্মীদের কণ্ঠরোধ এবং ভিন্নমত দমন করতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার করা হচ্ছে। বিচার চলাকালীন আইনজীবীদের প্রথমে সশরীরে উপস্থিতিতে বাধা দেওয়া হয় এবং পরে কারাগার চত্বরে আদালত স্থানান্তরের পর তাদের একটি খাঁচার মতো কাঠামোর পেছনে রাখা হয়েছিল। শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার চর্চা এবং মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলার জন্যই তাদের এই পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছে।
বলপূর্বক গুম, অন্যায় রাষ্ট্রীয় বিচার এবং ধর্ম অবমাননা আইনের শিকার প্রান্তিক জনগণের পক্ষে সোচ্চার থাকার জন্য পরিচিত এই দুই আইনজীবী। গত ২৪ জানুয়ারি সামাজিক মাধ্যমে সামরিক বাহিনীর সমালোচনা এবং বেলুচ ও পশতুন কর্মীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে পোস্ট করার অভিযোগে তাদের ১০ থেকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
যদিও গত ১৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট তাদের সাজা স্থগিত করে জামিন মঞ্জুর করেছিলেন, তবে একই দিনে পৃথক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযোগে তাদের আবার গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২৫ সালের মার্চে বেলুচ আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভে বিশৃঙ্খলা এবং ২০২৪ সালের একটি ক্রিকেট ম্যাচের নিরাপত্তা বেষ্টনী অপসারণের মতো পুরনো ঘটনার সঙ্গে এই মামলাগুলো সম্পৃক্ত। ২৬তম ও ২৭তম সাংবিধানিক সংশোধনের পর পাকিস্তানের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে দেশজুড়ে যখন তীব্র উদ্বেগ চলছে, ঠিক তখনই এই আলোচিত রায়টি প্রকাশিত হলো।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন