প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানির পরবর্তী তারিখ আগামী ১৪ জুলাই নির্ধারণ করেছেন আদালত। বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালত এই তারিখ ঠিক করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. জাকির হোসাইন এ সংক্রান্ত বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, আজ শুনানির জন্য এই মামলায় কারাগারে থাকা ২৬ আসামিকে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে হাজির করা হয়েছে। এদের মধ্যে ছিলেন ২১ জন পুরুষ এবং ৫ জন নারী আসামি। তাদের উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠন শুনানি শুরু হয়ে যায়।
শুনানি চলাকালীন একপর্যায়ে আদালত কক্ষে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং মামলার আসামি সাবিনা আক্তার তুহিন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আদালত কক্ষে একটি বেঞ্চে বসানোর ব্যবস্থা করা হয় এবং মাথায় পানি দেওয়া হয়।
এ সময় তুহিন বলেন, কারাগারে খাবারের কষ্টের কথা তুলে ধরে তার আইনজীবী পলাশী মজুমদারের উদ্দেশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ‘আমারে যা করার করুক। আর যেন আমাদের না আনে। সেই ভোরবেলা নিয়ে আসা হয়েছে। খারাপ লাগছে। মনে হয় ডায়াবেটিস নেমে গেছে। প্রেসার বাড়ল না কমল তা বুঝব কেমনে। কোনো আইন নাই, রুলস নাই।’
নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য আরও বলেন, ‘আমি ডায়াবেটিস, হার্টের রোগী। ভোরবেলা নিয়ে আসা হয়। কলা আর রুটি দেয়। কলা খেতে পারি না, নষ্ট। আর আমাদের কোনো খাবার দেয় না। আমরা আর তো পারি না। সকাল থেকে বসায় রাখছে।’
আজ আদালতে সাবিনা আক্তার তুহিনসহ কয়েকজন আসামির পক্ষে তাদের আইনজীবীরা অব্যাহতি চেয়ে শুনানি শেষ করেন। অন্যদিকে, বাকি কয়েকজন আসামির আইনজীবীরা অভিযোগ গঠন শুনানি পেছানোর জন্য সময়ের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
গত বছরের ২৭ মার্চ শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে আদালতে এই মামলা দায়ের করেন সিআইডির সহকারী বিশেষ পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক। তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়।
এরপর গত বছরের ১৪ আগস্ট আদালত এই অভিযোগপত্র গ্রহণ করে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় এবং ১৪ অক্টোবর শেখ হাসিনাসহ ২৬১ জনকে আদালতে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন আদালত। পরবর্তীতে ১১ নভেম্বর মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ার কারণে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়।
সর্বশেষ গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ থেকে বর্তমান ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালতে বদলি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ড. রাব্বী আলমের নেতৃত্বে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর একটি জুম মিটিংয়ে শেখ হাসিনাসহ কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন। ওই মিটিংয়ে শেখ হাসিনা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উৎখাত করার নির্দেশনাসহ দেশবিরোধী বক্তব্য দেন, যা পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন