প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঙ্গরাজ্য হাওয়াইয়ের বিগ আইল্যান্ডে শনিবার হারিকেন লালার প্রভাবে ভারী বৃষ্টি ও প্রবল ঝড়ো বাতাস আঘাত হেনেছে। আবহাওয়াবিদরা রাজ্যটির বিভিন্ন এলাকায় বিপজ্জনক বন্যার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার সকাল ৯টার সময় লালা ক্যাটাগরি-১ হারিকেনে পরিণত হয়। এ সময় ঝড়টির বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৭৫ মাইল, যা ১২০ কিলোমিটার।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। বিগ আইল্যান্ডসহ হাওয়াই কাউন্টিতে হারিকেন সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর পাশাপাশি মাউই, মোলোকাই, কাহুলাওয়ে, লানাই, ওহু, কাউয়াই ও নিহাউÑরাজ্যের অপর সাতটি প্রধান দ্বীপেও ঝড়ের সতর্কতা জারি রয়েছে।
বিগ আইল্যান্ডে লালার প্রভাবে ১০ থেকে ২০ ইঞ্চি, অর্থাৎ ২৫ থেকে ৫০ সেন্টিমিটার, বৃষ্টিপাত হতে পারে। কোন কোন এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ ২৫ ইঞ্চি, যা প্রায় ৬৪ সেন্টিমিটার, পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার জানিয়েছে, এই বৃষ্টির ফলে জীবনহানির আশঙ্কা রয়েছে এবং বন্যা ও ভূমিধস ঘটতে পারে। বিশেষ করে পাহাড়ি ও খাড়া ভূখণ্ডের এলাকাগুলোতে ঝুঁকি অনেক বেশি।
শনিবার বিকেল পর্যন্ত হাওয়াইয়ের ২০ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন। আবহাওয়া কর্মকর্তারা জানান, বিগ আইল্যান্ডজুড়ে ক্ষতিকর ঝোড়ো বাতাস ও ভারী বৃষ্টি হচ্ছে।
ঝড়ের প্রভাবে সমুদ্রের পানির উচ্চতা ১ থেকে ৩ ফুট পর্যন্ত বাড়তে পারে। এই অবস্থায় তৈরি হতে পারে বড়ো এবং বিপজ্জনক ঢেউ। লালার কারণে সাগরের ঢেউ আরও উত্তাল হয়ে উঠবে। কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে সপ্তাহান্তজুড়ে জীবনহানির ঝুঁকিপূর্ণ ঢেউ ও তীব্র স্রোত তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।
রোববার পর্যন্ত বিরূপ আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। হাওয়াইয়ের গভর্নর জশ গ্রিন ঝড়টিকে ‘একটি ভয়াবহ ঝড়’ উল্লেখ করে অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, ধ্বংসাবশেষ সরানো, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষিত রাখা এবং অন্যান্য প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা নিতে হাওয়াই ও এর বিভিন্ন কাউন্টির কাছে যথেষ্ট সম্পদ প্রয়োজন।
হোনোলুলুর মেয়র রিক ব্ল্যাঞ্জিয়ার্ড জানান, তার প্রশাসন কয়েক দিন ধরে ঝড় মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ঝড়ের আগে বাসিন্দাদের গাড়িতে জ্বালানি ভরে নিতে দেখা গেছে।
সাফির-সিম্পসন স্কেলে ক্যাটাগরি ৩, ৪ বা ৫-এর ‘ভয়াবহ হারিকেন’ সর্বশেষ ১৯৯২ সালে হাওয়াইয়ে আঘাত হেনেছিল। সে সময় হারিকেন ইনিকির আঘাতে অন্তত ছয়জন নিহত হয় এবং কয়েক বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়।
গত মাসেও হারিকেন ফাউস্তোর হুমকির মুখে পড়েছিল হাওয়াই। তবে পরে ঝড়টি দুর্বল হয়ে দ্বীপপুঞ্জের উত্তরে সরে যায়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন