প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফিফা র্যাঙ্কিং অনুসারে— ব্রাজিল ও মরক্কো শক্তির দিক থেকে প্রায় সমান শক্তিশালী। তালিকায় ব্রাজিল ৬ নম্বরে এবং মরক্কো ৭ নম্বরে আছে। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে র্যাঙ্কিংয়ের হিসাব সব সময় সঠিক হয় না, এটি আবারও স্মরণ করিয়ে দিল এই ম্যাচটি।
এই টুর্নামেন্টে যেই প্রতিপক্ষ হোক না কেন, ব্রাজিল সবসময় অঘোষিত ফেবারিট। তাই আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেও পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা মাঠে নেমেছিল প্রাথমিকভাবে এগিয়ে থাকা দল হিসেবে। কিন্তু ‘আটলাসের সিংহ’খ্যাত মরক্কো প্রমাণ করল—এটি শুধুমাত্র হাইপ নয়, বরং র্যাঙ্কিংয়ে তাদের অবস্থানও যথার্থ।
ম্যাচের শুরু থেকেই মরক্কো ব্রাজিলকে চাপে রেখেছিল। নেইমারকে ছাড়া মাঠে নামা ব্রাজিলের তুলনায় আফ্রিকান দলটি অনেক বেশি সু-সংগঠিত ও আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছে। মরক্কোর মাঝমাঠের দক্ষ খেলার উল্টো দিকে ব্রাজিলের আসলে কোনো উল্লেখযোগ্য মধ্যমাঠ ছিল না!
ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রথমার্ধে দাপুটে খেলা প্রদর্শন করেছে দলটি। আফ্রিকার প্রথম দল হিসেবে যারা সর্বশেষ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল। যদিও দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল খেলে উঠলেও তাদের খেলাটা সেরা ব্রাজিলের থেকে অনেক দূরে ছিল। সুতরাং, সামগ্রিকভাবে এই ম্যাচের ১–১ গোলের ড্রকে ন্যায্য বলা যায়।
নিউ জার্সিতে প্রথমার্ধে ভিনিসিয়ুসের অসাধারণ গোল ছাড়া ব্রাজিল দুর্বল অবস্থায় ছিল। বিশেষ করে প্রথম আধাঘণ্টায় ব্রাজিলের খেলা ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। এই সময়টাতে তাদের পারফরম্যান্স ছিল অস্থির ও ছন্দহীন।
প্রথমার্ধে ফরোয়ার্ড লাইনে ইগর থিয়াগো অনেক পরিশ্রম করেছেন, কিন্তু ফলপ্রসূ হয়নি। দগলাস সান্তোসও ভালো খেলে কিন্তু ইবানিয়েজ ছিল পুরোপুরি দিশাহারা। মরক্কোর আক্রমণগুলো বুঝতে পারছিলেন না। মার্কিংয়ে দুর্বল ছিলেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ভালোভাবে খেলতে পারেননি।
হতাশা প্রকাশ করেছিলেন রাফিনিয়াও। যিনি আগের মৌসুমে চোটে ভুগেছিলেন এবং তার দুর্দান্ত ফর্ম হারিয়ে ফেলেছেন। সাম্প্রতিক প্রীতি ম্যাচগুলোতেও ভালো খেলতে পারেননি। আজ রাফিনিয়া মাঠের সবচেয়ে খারাপ খেলোয়াড় নন শুধুমাত্র এই কারণে যে ইবানিয়েজ ও পাকেতা আরও খারাপ খেলছেন। প্রথমার্ধে দু-একজন ছাড়া আর কেউ সন্তোষজনক পারফর্ম করেননি।
মিডফিল্ডকে কিছুটা সচল রেখেছেন ব্রুনো গিমারেস। ভিনির গোলে অ্যাসিস্টসহ দারুণ কিছু বল সামনের দিকে বাড়িয়েছেন। অন্যদিকে কাসেমিরো ও পাকেতা একের পর এক ভুল করেছেন।
ভিনির গোলে তিনি অসাধারণ একটা কাজ করেছেন। বরাবরের মতো এটি ব্রাজিলের জার্সিতে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দশম গোল। যখন ব্রাজিল চাপে ছিল, গিমারাইসের দেওয়া পাসে ভিনি জাদু দেখালেন।
বাঁ দিক দিয়ে এগোতেও তিনি শরীরের ভঙ্গিতে ভিন্ন দিকের ইঙ্গিত দেন। মুহূর্তেই ডান পায়ে বল সরিয়ে প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে উঠেন। ফুলব্যাক তখন কিছুই করতে পারেননি।
ভিনির ফিনিশিং ছিল মনে রাখার মতো। এমন কারণে তিনি বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের মধ্যে একজন। বলা যায়, দলের সেরা খেলোয়াড়ের এমন পারফরম্যান্সই আনচেলত্তির হতাশাজনক ব্রাজিল দলকে প্রথমার্ধে রক্ষা করেছে।
বিরতির পর স্বাভাবিকভাবেই আনচেলত্তি একাধিক পরিবর্তন করেন। প্রথমার্ধে খারাপ খেলতে থাকা ইবানিয়েজ ও কাসেমিরোকে তুলে ফাবিনিও ও দানিলোকে মাঠে নামানো হয়। এরপর ৬১ মিনিটে ইগর থিয়াগো ও লুকাস পাকেতাকে তুলে মাঠে নামান মাতেউস কুনিয়া ও লুইস এনরিকে। আনচেলত্তির বিদ্যমান অভিজ্ঞতার ওপর ভরসা ছিল।
বিরতির পর ব্রাজিল অনেক বেশি শান্ত, গোছানো ও সংগঠিত হয়ে মাঠে ফিরতে চেষ্টা করে। প্রতিপক্ষ যখন আত্মসমর্থনে আক্রমণ গড়ে তোলা চেষ্টা করেছিল, তখনও তারা আগের তুলনায় অনেক বেশি চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়। তবে শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত গোলটি আসেনি।
প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলের কোচ আনচেলত্তি কৌশলগতভাবে সুবিধা গ্রহণ করতে পারেননি। যেমন ইগর থিয়াগোকে দলে ডাকার উদ্দেশ্য ছিল মরক্কোর রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করা। কিন্তু পরিকল্পনাটি বাস্তবে পুরোপুরি কার্যকরী ছিল না। প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্স ব্রাজিলের জন্য একটি সতর্কবার্তাও।
ব্রাজিলের সামনে এখন তুলনামূলক সহজ দুটি ম্যাচ রয়েছে। নকআউট পর্বে শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের মোকাবেলার আগে নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার এটি একটি সুযোগ। আনচেলত্তি এখনও নিজের সেরা একাদশ খুঁজে পেতে পারেননি, তা স্পষ্ট। দলটি পুরোপুরি প্রস্তুত নয় এবং দেখে মনে হচ্ছে ‘কাগুজে বাঘ’।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন