প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে অভ্যুত্থানের পর ভিসা স্থগিত থাকার দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পার হয়ে গেছে। অবশেষে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ঘোষণা করেছেন যে, ভারত আবারও বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পর্যটন ভিসা চালু করতে যাচ্ছে। এই ঘোষণায় কলকাতার 'মিনি বাংলাদেশ' খ্যাত এলাকায়, বিশেষ করে হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং দোকান মালিকদের মধ্যে স্বস্তির হাওয়া বইতে শুরু করেছে। তারা গত দুই বছর ধরে চরম ব্যবসায়িক মন্দার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে যে, মারকুইস স্ট্রিট, সাডার স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, রফি আহমেদ কিদওয়াই রোড ও কলিন লেন এলাকায় প্রায় ৩৫০টি হোটেল জন্য এই সিদ্ধান্তকে একটি 'লাইফলাইন' (জীবনরেখা) হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই অঞ্চলে হোটেলের রুম বুকিং এবং গড় ভাড়া—উভয়ই প্রায় অর্ধেকে নেমে গিয়েছিল। হোটেলগুলোর পাশাপাশি রেস্তোরাঁ, মানি চেঞ্জার (বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবসায়ী), পরিবহন ব্যবসায়ী, পোশাকের দোকান এবং নিউ মার্কেটের প্রায় ৩,০০০ দোকানি এখন ব্যবসা ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য প্রত্যাশিত। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, নিউ মার্কেটে প্রতিদিনের ব্যবসা যেখানে আগে প্রায় ৫০০ কোটি রুপি ছিল, তা কমে মাত্র ৫০ কোটিতে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।
ক্যালকাটা হোটেলস, গেস্ট হাউসেস অ্যান্ড রেস্টুরেন্টস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হরমিত সিং টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, এই ঘোষণা মধ্য কলকাতার বাণিজ্যিক এলাকার পুরো পরিবেশ বদলে দিয়েছে, যা মূলত বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
"এই সেন্ট্রাল কলকাতা এলাকার পুরো বেল্টটিই সিংহভাগ বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর নির্ভর করে। হোটেলগুলোতে রুম বুকিং এবং গড় ভাড়া দুটোই ৫০% কমে গিয়েছিল। আগে যেখানে গড় ভাড়া ছিল প্রায় ২,০০০ টাকা, তা নেমে এসেছে ৯০০ থেকে ১,০০০ টাকায়। কিছু হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধও হয়ে গেছে। ফরেন এক্সচেঞ্জ দোকান, পরিবহন ব্যবসায়ী, পোশাকের দোকান—সবাই এখন বাংলাদেশি পর্যটকদের আগমনের অপেক্ষায় দিন গুনছেন," বলেন হরমিত সিং।
তবে ব্যবসায়ী মালিকরা এখনো কিছুটা সতর্কতার সঙ্গে রয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, এর আগে একবার গুঞ্জন উঠেছিল যে মে মাসের ৬ তারিখ থেকে ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হবে, কিন্তু শেষপর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি। অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রাজেশ শেঠি বলেন, "মানুষ এখন বুক বেঁধে অপেক্ষা করছে। একবার ভিসা দেওয়া শুরু হলে, হোটেল মালিকরা বন্ধ থাকা রুমগুলো আবার খোলার কাজে ব্যস্ত হয়ে উঠবেন এবং দোকানদাররাও নতুন পণ্য তুলতে শুরু করবেন।"
হোটেল মালিকরা জানান, বাংলাদেশি পর্যটকরা ফিরে এলে শুধু যে রুম বুকিং বাড়বে তা-ই নয়, ভাড়াও আগের জায়গায় ফিরবে। ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যবসায়িক পর্যটকরা সাধারণত ১-২ দিন থাকেন, পক্ষান্তরে বাংলাদেশি দর্শনার্থীরা সাধারণত কলকাতায় অন্তত এক সপ্তাহ কাটান।
নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানান, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গড়ে ওঠা সহিংস পরিস্থিতির কারণে ভারত ভিসা স্থগিত করায় তাদের ব্যবসা ৭০%-এরও বেশি ধসে পড়ে।
এসএস হগ মার্কেট ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অশোক গুপ্ত বলেছেন, "নিউ মার্কেটের প্রায় ৩,০০০ দোকান গত দুটি বছর কোনোমতে টিকে আছে। এর আগে, এখানকার ব্যবসার প্রায় ৭০-৭৫% আসত বাংলাদেশি পর্যটকদের হাত ধরে।"
চকোলেট, ড্রাই ফ্রুটস এবং প্রসাধনী বিক্রেতা মোহাম্মদ মুস্তফা নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, দু-তিন বছর আগে তারা দিনে যে পরিমাণ বিক্রি করতেন, বর্তমানে সেই লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পুরো একটি মাস লেগে যাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন