প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং এর সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর ওড়িশা উপকূলের লঘুচাপটি এখন মৌসুমি নিম্নচাপে রূপান্তরিত হয়েছে। এর প্রভাবে আজ সোমবার থেকে বাংলাদেশে উপকূলীয় অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহওয়া অধিদপ্তর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা এবং পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত অব্যাহত রেখেছে, কারণ সাগর উত্তাল রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ অঞ্চলে অবস্থানরত লঘুচাপটি প্রথমে ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে পরিবর্তিত হয়েছে। এই লঘুচাপটি গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে অবস্থান করছিল, যা আরো ঘনীভূত হয়ে মৌসুমি নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষটি ভারতের রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশ এবং বিহার, নিম্নচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু মোটামুটিভাবে সক্রিয় রয়েছে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক জানান, লঘুচাপটি নিম্নচাপে রূপান্তরিত হওয়ায় এর প্রভাবে দেশের উপকূলীয় এলাকায় আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ সময় বর্ষাকাল হিসাবে সারা দেশে কিছু পরিমাণে বৃষ্টি হতে পারে। রাজধানীতে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকলেও দিনের বেশিরভাগ সময় শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে গতকাল সারা দেশে আবহাওয়া মোটামুটি শুষ্ক ছিল। যদিও রাজধানীতে বৃষ্টিপাত হয়নি, তবে সর্বোচ্চ বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে কক্সবাজারের টেকনাফে, যেখানে ৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিপাতের অভাবের ফলস্বরূপ তাপমাত্রা বেড়েছে। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন রাজধানীতে তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বন্যা সতর্কীকরণ ও পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, গত তিন দিন বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় দেশের বন্যা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটেছে। সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদী এখনও বিপৎসীমার উপরে বইছে, তবে সার্বিকভাবে সুরমা-কুশিয়ারার পানি কমছে, যা আগামী তিন দিন অব্যাহত থাকতে পারে। অন্যান্য নদীর পানিও ধীরে ধীরে কমতে দেখা যাচ্ছে। বাপাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহান জানিয়েছেন, বৃষ্টিপাত কমে আসায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন