প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চাঁদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. রবিউল হাসান বলেছেন, পুলিশ যেখানে থাকবে, সেখানে মাদককারবারিরা থাকতে পারবে না। চাঁদপুর জেলা পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।
পুলিশের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিরও প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে মাদকের কুফল সম্পর্কে মানুষের মধ্যে জানানো এবং জনমত গঠন করার চেষ্টা করা হবে।
আজ বুধবার বিকালে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে জেলা সদরে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে চলমান বিষয় নিয়ে মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, “আপনারা যে বক্তব্য রেখেছেন, সেখান থেকে জেলার বিভিন্ন ঘটনা ও সমস্যা প্রকাশ পেয়েছে।” বিশেষ করে মাদক, কিশোর গ্যাং ও সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়গুলো। গত ডিসেম্বর মাস থেকে জুন মাসের মধ্যে সড়ক পরিবহণের অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ৬৫ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে।
এই সময় ৩৮৭ জন কিশোর গ্যাং সদস্যকে আটক করা হয়েছে। আর মে মাসে মাদক সংক্রান্ত মামলা দাখিল করা হয়েছে ২১৮টি।
এসপি আরও বলেন, “কিশোর গ্যাংকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে পরিবার থেকে।” অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে এবং সন্ধ্যার পর সন্তান কোথায় থাকে, কী করছে খোঁজ রাখতে হবে। তবে পুলিশ প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে টহল বৃদ্ধি করবে এবং ব্যবস্থা নেবে।
মাদকের ভয়াবহতা কমাতে কমিউনিটি পুলিশিংকে সক্রিয় করা হবে। এলাকা ভিত্তিক সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হবে। যারা মাদক ছেড়ে আসবে তাদের ধর্মীয় কাজে (তাবলিগ) যুক্ত করা হবে, যাতে পরিবারে উপার্জন না হলেও খরচ কমে যায়।
পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যগুলো জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নিতে বলার কথাও জানান। খুব দ্রুতই কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি গঠন করা হবে।
সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. লুৎফর রহমান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. খায়রুল কবীরও বক্তব্য দেন।
সাংবাদিকদের এ সভায় চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, সাংবাদিক আলম পলাশ, ফারুক আহম্মেদ, শাহাদাত হোসেন শান্ত, আল-ইমরান শোভন, কাদের পলাশ, মো. মাসুদ আলম, তালহা জুবায়ের, শরীফুল ইসলাম, আতিকুর রহমান, ফরিদুল ইসলাম, এইচএম নিজাম, মনির হোসেন ও ইমতিয়াজ আহম্মেদ বক্তব্য দেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে এই সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সভা করায় জেলা পুলিশকে সকলের পক্ষে ধন্যবাদ জানান প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী।
তিনি বলেন, “আমরা দেখেছি, পুলিশ ঈদের আগে ও পরে যথেষ্ট আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে। কিন্তু, যে কোনো ঘটনার পর জনগণ পুলিশের পদক্ষেপ জানতে চায়। আমি মনে করি, পুলিশ আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করবে। এই ক্ষেত্রে গণমাধ্যম সব ধরনের সহযোগিতা করবে।”
সভায় জেলার বিভিন্ন স্তরে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা ও চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)’র ওসি মো. মজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন