প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কয়েক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনেতা ডনের সঙ্গে এক নারীর অন্তরঙ্গ ছবি ভাইরাল হয়ে যায়, এবং তা নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। ছবিতে যে নারীর উপস্থিতি ছিল, তাকে সালমান শাহের স্ত্রী সামিরা দাবি করা হলেও পরে এ বিষয় নিয়ে ভিন্ন তথ্য সামনে আসে। ছবিটির সত্যতা ও পেছনের ঘটনা সম্পর্কে সে সময় কথা বলেছিলেন সামিরা এবং সালমান শাহের বন্ধু মোস্তাক ওয়াইজ।
সালমান শাহর মৃত্যুর পর মোস্তাক ওয়াইজকে বিয়ে করেছিলেন সামিরা, এরপর তাদের দাম্পত্য জীবনের বিচ্ছেদ ঘটে। তবে ছবিটি প্রসঙ্গে আলোচনার সময় মোস্তাক ওয়াইজ স্পষ্ট দাবি করেন যে, ভাইরাল হওয়া ছবিতে ডনের সঙ্গে থাকা নারী সামিরা নয় বরং তিনি আমিনা অভিনেত্রী সাবরিনা।
মোস্তাক ওয়াইজের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘আশা ভালোবাসা’ সিনেমার শুটিং চলাকালীন সময় ছবিটি তোলা হয়েছিল। তার মতে, “সামিরা আমাকে বলেছে এ ছবির পেছনের কাহিনি। এটা ‘আশা ভালোবাসা’ সিনেমার শুটিং চলাকালীন তোলা।” তিনি আরো বলেন, “ডনের সঙ্গে যে মেয়েটিকে দেখা যাচ্ছে, সে সামিরা নয়। ছবির মেয়ে নায়িকা সাবরিনা।”
ছবিটির পেছনের ঘটনা ব্যাখ্যা করে মোস্তাক ওয়াইজ জানান, ‘আশা ভালোবাসা’ সিনেমার মূল নায়ক-নায়িকা ছিলেন সালমান শাহ ও শাবনাজ, এবং সাবরিনা ছিলেন পার্শ্বনায়িকা। শুটিংয়ের সময় দুষ্টুমি করে ঘরের ভেন্টিলেটরের ফাঁক দিয়ে ছবিটি তুলেছিলেন সালমান শাহ। মোস্তাক ওয়াইজ দাবি করেন যে, পরে সেই ছবি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ডনের সঙ্গে মজা করতেন।
এদিকে, ডনের সঙ্গে সামিরার একটি সত্যিকারের ছবি ছিল বলে দাবি করেন মোস্তাক ওয়াইজ। তার ভাষ্য হলো, “একটি ছবিতে সামিরা ম্যাগাজিন দেখছিলেন এবং সালমান শাহ ছবি তুলছিলেন। সে সময় ডন হাত বাড়িয়ে দিলে তার সঙ্গে সামিরার একটি ছবি তোলা হয়।”
মোস্তাক ওয়াইজের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডনের সঙ্গে সামিরার নামে ছড়িয়ে পড়া অন্যান্য ছবিগুলো ফটোশপের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, “ডনের সঙ্গে সামিরার যে ছবিগুলো আপনারা দেখছেন বা দেখেন, সব ফটোশপের কারসাজি।”
অন্যদিকে, ভাইরাল ছবিটি নিয়ে সে সময় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন সামিরা। তিনি দাবি করেছিলেন, তার একটি ছবি ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে এবং সালমান শাহের ভক্তরা বিষয়টি না জেনে তাকে ভুল বুঝছেন।
সামিরা বলেছিলেন, “আমার একটি ছবি দেখিয়ে মিথ্যা কথা ছড়ানো হচ্ছে। ওর ভক্তরা না জেনে আমাকে ভুল বুঝছেন, অপবাদ দিচ্ছেন। তারা আসলে ইমনের ভালোবাসার মানুষকেই ছোট করছেন। ডন আমার ছোট ভাইয়ের মতো। সে প্রতি ঈদে আমার পা ছুঁয়ে সালাম করত।”
সালমান শাহ এবং তার পরিবারের সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করতে চাইনি বলেও জানিয়েছিলেন সামিরা। তিনি একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে কথা বলার কথাও জানান। তার দাবি, এ বিষয়ে একাধিকবার ডিবির সাথে কথা বলেছেন এবং প্রশাসনের জিজ্ঞাসাবাদে সহযোগিতা করেছেন।
উল্লেখ্য, নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে আসেন সালমান শাহ। মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করেন এবং তিনি দর্শকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন সালমান শাহ।
সালমান শাহর মৃত্যুর রহস্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ তোলা হলেও বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য সামনে এসেছে। মৃত্যুর পর তার স্ত্রী সামিরাকে ঘিরেও নানা আলোচনা ও অভিযোগ তৈরি হয়।
এর আগে ১৯৯২ সালের ১২ আগস্ট ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন সালমান শাহ ও সামিরা। কয়েক বছরের দাম্পত্যের পর সালমান শাহর আকস্মিক মৃত্যু তারা দুজনের জীবনে গভীর শোক নিয়ে আসে। এরপর থেকেই সামিরাকে ঘিরে নানা আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়, যার রেশ পরবর্তী সময়েও অব্যাহত থাকে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন