প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানা প্রাঙ্গণে প্রায় পাঁচ দশক ধরে একটি পুরোনো জিপ গাড়ি সংরক্ষিত রয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে এই গাড়িটি সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত যান হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও গাড়িটির ইঞ্জিন এখনো সচল অবস্থায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, দেশের কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে সারের চাহিদা পূরণ এবং সার উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে আশুগঞ্জে সার কারখানা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আশুগঞ্জ সফর করে কারখানার কার্যক্রম ও অগ্রগতি পরিদর্শন করেন।
১৯৭৭ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি পরিচালিত হয়। এর অংশ হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার সোনারামপুর এলাকায়ও খাল খনন করা হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ওই কর্মসূচির অগ্রগতি পরিদর্শনে জিয়াউর রহমান যে জিপ গাড়ি ব্যবহার করেছিলেন, সেটিই বর্তমানে আশুগঞ্জ সার কারখানা প্রাঙ্গণে সংরক্ষিত রয়েছে।
সময়ের পরিক্রমায় জিপটি এখন একটি ঐতিহাসিক স্মারকে পরিণত হয়েছে। পুরোনো এই যানটি দেশের কৃষি, শিল্প ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের স্মৃতিও বহন করছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
গাড়িটির বর্তমান চালক আলমগীর মিয়া জানান, তার বাবা মো. জাহাঙ্গীর মিয়া দীর্ঘ ২৬ বছর এই গাড়ি চালিয়েছেন। তিনি নিজেও গত ২২ বছর ধরে গাড়িটির চালকের দায়িত্ব পালন করছেন। কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গাড়িটির ইঞ্জিন সচল আছে কি না, তা পরীক্ষা করতে মাঝে মাঝে এটি চালানো হয়।
আলমগীর মিয়া বলেন, “গাড়িটির ইঞ্জিন এখনো সচল আছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মাঝে মাঝে গাড়িটি চালিয়ে পরীক্ষা করা হয়। এটি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত হওয়ায় আমরা যত্ন করে সংরক্ষণ করে আসছি।”
আশুগঞ্জ সার কারখানা শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু কাউসার বলেন, ইতিহাসের সাক্ষী এই পুরোনো জিপ গাড়িটি এখনো কারখানা প্রাঙ্গণে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
আশুগঞ্জ সার কারখানার উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, জিয়াউর রহমান আশুগঞ্জের সোনারামপুরে খাল খনন কার্যক্রম পরিদর্শনে এই গাড়িতে করে গিয়েছিলেন। এ সময় একাধিক দেশের রাষ্ট্রদূতসহ তার সফরসঙ্গীরাও গাড়িটিতে ছিলেন বলে জানান তিনি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ঐতিহাসিক এই জিপ গাড়িটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও সর্বসাধারণের জন্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হলে নতুন প্রজন্ম দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন