প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মালয়েশিয়া প্রবাসীর একটি ছেলেকে অপহরণের পর ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়ার অভিযোগে, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সম্প্রতি দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে।
বুধবার (১০ জুন) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খানের সই করা একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্চারামপুর উপজেলার শফিরকান্দি (পূর্বপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল্লার ছেলে আরিফুল (৩০), এবং অপরজন হলেন একই গ্রামের কামাল মিয়ার ছেলে সানি (২২)।
সিআইডি জানায়, অপহৃত যুবকের বাবা গত ৪-৫ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন, এবং পরিবারের ভরণপোষণের জন্য তিনি নিয়মিতভাবে অর্থ পাঠাতেন। চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি বিকালে ওই যুবকের মোবাইল ফোনে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে কল করে জানানো হয়, যে তার বাবা মালয়েশিয়া থেকে ৫০ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। তাকে দেখা করতে দক্ষিণখান থানাধীন জয়নাল মার্কেট এলাকায় যেতে বলা হয়।
যুবক ঠিকানা অনুযায়ী গিয়ে, সেখান থেকে অপহরণকারীরা তাকে কৌশলে একটি প্রাইভেটকারে তুলে মিরপুর পল্লবীর একটি ভবনে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং তার কাছে থাকা নগদ ২০ হাজার ৫০০ টাকা ও মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে অপহরণকারীরা ভিকটিমের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে, ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেয়।
অপহরণের বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি শক্তিশালী অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়। পুলিশি কার্যকলাপের বিষয়টি বুঝতে পেরে অপহরণকারীরা ১২ জানুয়ারি রাতে ভিকটিমকে ডিএমপির আগারগাঁও থানাধীন শেরে-ই বাংলা নগর এলাকায় একটি অজ্ঞাতনামা সিএনজিতে রেখে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। এই ঘটনার পর ভিকটিমের মা বাদী হয়ে দক্ষিণখান (ডিএমপি) থানায় একটি মামলা করেন।
মামলাটির তদন্তভার পাওয়ার পর সিআইডি গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। সিআইডির ঢাকা মেট্রো-উত্তর বিভাগের একটি আভিযানিক দল গত মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর থানাধীন শফিরকান্দি গ্রামে অভিযান চালিয়ে আরিফুল ও সানিকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
তদন্তে জানা যায়, তারা বেশ কয়েক বছর ধরে মালয়েশিয়ায় ছিল। এই ঘটনাটির কয়েকদিন আগে তারা পরিকল্পনা করে বাংলাদেশে আসেন এবং এই অপরাধ সংঘটনের পর আবার মালয়েশিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
সিআইডি আরও জানায়, এই চক্রটি গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ায় একই ধরনের অপহরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মুক্তিপণ আদায়ের অপরাধ করে আসছিল। সানির বিরুদ্ধে বাঞ্চারামপুর থানায় একটি পুরনো মামলাও রয়েছে। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করার লক্ষ্যে এবং ঘটনার বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনের জন্য, তাদের আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন