প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি আর দুই দিন। এর মধ্যেই মাঠের ভেতরে ও বাইরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
দলগুলো যখন বিশ্বকাপ প্রস্তুতির শেষ মুহূর্তের কাজ সারছে, তখন খেলোয়াড়, স্টাফ এবং রেফারিকে পড়তে হচ্ছে আয়োজক দেশের কঠোর ভিসা নীতিতে।
এখন সব কিছুকে ছাপিয়ে ফুটবল অঙ্গনে ভিসা সংক্রান্ত সমস্যা শিরোনামে উঠে এসেছে। এই ক্রমবর্ধমান ঘটনা তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
ইতিমধ্যে ২০২৬ বিশ্বকাপকে আর্সেনাল ও ইংল্যান্ডের সাবেক কিংবদন্তি খেলোয়াড় এই বৈশ্বিক টুর্নামেন্টকে ‘বিশৃঙ্খলার বিশ্বকাপ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
বুধবার (১০ জুন) আসন্ন বিশ্বকাপ নিয়ে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন ‘দ্য বিউটিফুল গেম’ শিরোনামে ধারাবাহিক প্রতিবেদন পর্ব শুরু করেছে। প্রতিবেদনে তারা বিশ্বকাপ উদ্বোধনী সপ্তাহের আগে আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বিতর্কে আলোকপাত করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির ফলে এখন এটি বাস্তবায়নের জোরালো চিত্র সামনে এসেছে।
এতে নির্দিষ্ট কিছু দেশের মানুষ কীভাবে টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারবে, সে বিষয়ে একটি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
চলতি সপ্তাহে এই নীতির কঠোর প্রয়োগ দেখা গেছে সোমালি রেফারি ওমর আব্দুলকাদির আরতানকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। কেন তাকে ফেরত পাঠানো হয়েছে সে বিষয়ে মার্কিন শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা বিভাগের একজন মুখপাত্র সিএনএনকে জানিয়েছেন, ইস্তাম্বুল থেকে একটি ফ্লাইটে মায়ামিতে পৌঁছানোর পর তাকে তল্লাশির সম্মুখীন হতে হয়েছে।
কিন্তু আফ্রিকার সেরা পুরুষ রেফারি হিসেবে মনোনীত হয়েছিলেন আরতান। শুধুমাত্র কঠোর অভিবাসন নীতির বলি হিসেবে তিনি বিশ্বকাপে রেফারি হিসেবে কাজ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
এরপরই ফিফাও তার নাম বিশ্বকাপ রেফারি থেকে সরিয়ে নিয়েছে। মার্কিন সরকার কারণ হিসেবে যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত উদ্বেগের কথা বলেছে।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় ৩৯টি দেশের মধ্যে সোমালিয়াও রয়েছে।
ফিফার একজন মুখপাত্র বলেছেন, কে ভিসা পাবে এবং কাকে আয়োজক দেশে প্রবেশ করার অনুমতি দেওয়া হবে, তা নির্ধারণের দায়িত্ব সেই দেশের সরকারের।
আরতানের নিষেধাজ্ঞার খবরটি এমন সময় এসেছে যেখানে ইরান ফুটবল দলও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে গিয়ে কিছু সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। বিশেষত টুর্নামেন্টের জন্য আগত নির্দিষ্ট কিছু দলের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে, বিবিসি স্পোর্টসের খবর অনুযায়ী, বেশ কয়েকজন স্কটল্যান্ড সমর্থকের ভ্রমণ অনুমতি শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়েছে। ফলস্বরূপ তাদের হোটেল ও ফ্লাইট বাবদ খরচকৃত অর্থ ক্ষতি হয়েছে।
এই ক্রমবর্ধমান ঘটনাটি স্বাভাবিকভাবেই তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে, এবং আর্সেনালের সাবেক কিংবদন্তি ও ইংল্যান্ডের আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় ইয়ান রাইট এই টুর্নামেন্টকে “বিশৃঙ্খলার বিশ্বকাপ” বলে আখ্যা দিয়েছেন।
গত মঙ্গলবার ইরানের ফুটবল ফেডারেশন (এফএফআইআরআই) এক বিবৃতিতে জানায়, আসন্ন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের এক সপ্তাহ আগেই দেশটির সমর্থকদের বরাদ্দকৃত টিকিট বাতিল করা হয়েছে।
তবে ফিফা কর্তৃক নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বকাপের অংশগ্রহণকারী দেশের জন্য প্রতিটি ম্যাচের প্রায় ৮% টিকিট সংরক্ষিত রাখার নিয়ম রয়েছে। যাতে ফেডারেশনগুলো তাদের সমর্থকদের কাছে সেগুলো বিক্রি করতে পারে।
ইরান গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে হতে যাচ্ছে। তবে কেনো ইরানের জন্য বরাদ্দকৃত টিকিট বাতিল করা হলো, এ বিষয়ে ফিফা কোনো কিছুই জানায়নি।
১৯৩০ সালে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর এই প্রথমবার কোনো আয়োজক দেশ এমন একটি দেশকে আতিথ্য দেবে, যার সঙ্গে তারা সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে।
এসব বিতর্কে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ খ্যাত এই বৈশ্বিক টুর্নামেন্টটিকে কিছুটা ম্রিয়মাণ করে তুলেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন