প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের হিমাচল প্রদেশের চাম্বা জেলায় শনিবার সকালে একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে নিচের সড়কে গিয়ে পড়ে যায়। এতে বাসটির চালক ও কন্ডাক্টরসহ অন্তত আটজন নিহত হন।
অন্যদিকে, আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। আহতদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর।
দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বৈরাগড়-তিসা সড়কের দেবিকোঠি এলাকার চালুঞ্জ মোড়ের কাছে। শর্মা বাস সার্ভিসের বাসটি বৈরাগড় থেকে চাম্বার দিকে যাচ্ছিল।
কর্মকর্তারা জানান, বাসটি শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বৈরাগড় থেকে চাম্বার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। প্রায় তিন কিলোমিটার যাওয়ার পর চালুঞ্জ মোড়ের কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে চালক, কন্ডাক্টরসহ মোট ১৮ জন ছিলেন। বাসটি প্রথমে সড়কের ওপর উল্টে যায় এবং পরে সেটি নিচের আরেকটি সড়কে গিয়ে পড়ে। এর ফলে কয়েকজন যাত্রী বাসের ভেতরে ও নিচে আটকা পড়ে যান।
দুর্ঘটনার পর বাসের ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা দ্রুত পুলিশকে খবর দেন এবং উদ্ধারকাজে সহায়তা শুরু করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে একটি বড় উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়।
জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), পুলিশ, হোমগার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও রাজস্ব বিভাগের সদস্যরা ওই দলে ছিলেন। তারা ক্ষতিগ্রস্ত বাস থেকে আটকে পড়া যাত্রীদের বের করে আনার কাজ শুরু করেন।
উদ্ধারের পর আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত ছয়জনকে চাম্বার পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু সরকারী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়। চাম্বা জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় মোট আটজন নিহত এবং ১০ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের পরিচয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। বাসটি কেন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেল, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দুর্ঘটনাটি যে বৈরাগড়-তিসা সড়কে ঘটেছে, সেটি চুরাহ উপত্যকার একটি দুর্গম পাহাড়ি সড়ক। সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৭ কিলোমিটার। সরু রাস্তা ও খাড়া ঢালের কারণে এই সড়কে যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ। পাহাড়ের উঁচু এলাকায় অবস্থিত সাচ পাসের দিকে যাতায়াতের জন্য বৈরাগড়-তিসা সড়কটি একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার সঠিক কারণ নির্ধারণে তদন্ত করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন