প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর শিপ্রা রানী দাস (৩৪) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দীর্ঘ চার বছরের তদন্ত শেষে, সোমবার (২২ জুন) সকালবেলা নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে মামলার প্রধান ও পলাতক আসামি তাজুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়, বলেও জানায় পিবিআই।
সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে মামলার রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেফতারের বিস্তারিত তুলে ধরেন পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শচীন চাকমা। এসময় তিনি জানান, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী রেলস্টেশন এলাকা থেকে তাজুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাজুল হত্যার কথা স্বীকার করেন।
পিবিআই পুলিশ সুপার আরো জানান, নাসিরনগর উপজেলার ভলাকুটের বাসিন্দা শিপ্রা রানী দাস বিভিন্ন কারণে নরসিংদীর কালু সাহা বাবুর্চির সাথে রান্নার সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। গত ২০২১ সালের ১ অক্টোবর কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। পরে নিখোঁজের চারদিন পর ৪ অক্টোবর নবীনগর থানার নবীপুর এলাকার একটি নির্জন কৃষিজমি থেকে শিপ্রার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে নবীনগর থানা পুলিশ। নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আসার পর এই ঘটনায় নিহতের স্বামী সবিনয় দাস ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি নবীনগর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ সময় ধরে মামলার রহস্য উদঘাটন ও আসামিদের শনাক্তে ব্যর্থ হওয়ায়, মামলাটি নবীনগর থানা থেকে তদন্তের ভার পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তদন্তে নেমে পিবিআই জানতে পারে, গ্রেফতার হওয়া বাবুর্চির সহযোগী তাজুল ইসলামের সাথে নিহত শিপ্রা রানী দাসের প্রায় ৬ থেকে ৭ মাস ধরে একটি পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এ সময়ে তারা সিলেট শ্রীমঙ্গলসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটে একসাথে রাত যাপন করেন। এক পর্যায়ে শিপ্রা রানী দাস তাজুল ইসলামের কাছে এনজিওর ঋণ পরিশোধের জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে গোপন শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশের হুমকি দেন। এতে লোকলজ্জার ভয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তাজুল ইসলাম হত্যার পরিকল্পনা করতে শুরু করেন।
পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন তাজুল ইসলাম শিপ্রা রানী দাসকে নৌকাযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার মেঘনার তীরবর্তী চরলাপাং এলাকার নবীপুরের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে শিপ্রার মরদেহ একটি ফসলি জমিতে ফেলে রেখে পালিয়ে যান তাজুল। এ সময় তাজুলের পায়ে থাকা জুতাও নিহতের মরদের পাশে পড়ে ছিল।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানান হয়, মামলাটির তদন্ত চলাকালে পিবিআই এর আগে আরেক সহযোগী আসামি বাবুর্চি কালু সাহাকে গ্রেফতার করেছিল। তবে তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের সম্পর্কিত বিশেষ কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সর্বশেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই এর উপ-পরিদর্শক মো. শাহাদাত হোসেনের উপর পরে। পরে তদন্তকারী অফিসার শাহদাত আসামি তাজুলের ফেলে যাওয়া জুতার সূত্র ধরে এবং আধুনিক প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে মামলার মূল রহস্য উদঘাটন এবং প্রধান আসামিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শচীন চাকমা জানান, দীর্ঘমেয়াদী এই অমীমাংসিত মামলার রহস্য উদঘাটনে আধুনিক প্রযুক্তি ও পেশাদার তদন্ত কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আসামি হত্যার দায় স্বীকার করেছে, মামলার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং অন্যদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, জানিয়েছেন পিবিআই পুলিশ সুপার।
এছাড়া গ্রেফতার আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন