প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শন করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি পরিদর্শনকালে দুর্গম জঙ্গলে পরিচালিত সেনাবাহিনীর বিভিন্ন কৌশলগত অনুশীলন, যুদ্ধ প্রস্তুতি এবং আধুনিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ঘুরে দেখেন।
সোমবার (১৩ জুলাই ২০২৬) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব রহমতপুর এলাকায় অবস্থিত মহড়াস্থলে পৌঁছে যান। পরে তিনি পায়ে হেঁটে বিস্তীর্ণ জঙ্গলের মধ্যে সেনাসদস্যদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য গৃহীত প্রস্তুতি নিবিড়ভাবে পরিদর্শন করেন।
মহড়া চলাকালে প্রধানমন্ত্রী ঘন জঙ্গলের ভেতরে সেনাসদস্যদের অবস্থান গ্রহণ, কৌশলগত চলাচল, আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা অনুশীলনসহ বিভিন্ন সামরিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।
এ সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা তাঁকে মহড়ার বিভিন্ন দিক, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং সেনাসদস্যদের প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন।
একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিরোধে ব্যবহৃত অত্যাধুনিক অ্যান্টি-ড্রোন মাল্টি-ব্যারেল সিস্টেমের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁকে এ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যপদ্ধতি এবং যুদ্ধে এর কার্যকারিতা সম্পর্কে ধারণা দেন।
পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী সেনাসদস্যদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলেন এবং তাঁদের খোঁজখবর নেন।
তিনি দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন। একপর্যায়ে তিনি সেনাসদস্যদের সঙ্গে মাটিতে বসে সময় কাটান এবং তাঁদের প্রশিক্ষণ, দায়িত্ব ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার কথা শোনেন।
এ সময়ে প্রধানমন্ত্রী মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সেনাসদস্যদের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবেশে তাৎক্ষণিকভাবে প্রস্তুত করা খাবারও গ্রহণ করেন। কৌটার মধ্যে মোমের আগুনে রান্না করা সাদা ভাত, ডাল, আলুভর্তা, চিংড়ি মাছ ও ডিমের তরকারি তাঁকে পরিবেশন করা হয়।
পরে সেনাসদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি নির্ভরযোগ্য ও গৌরবময় প্রতিষ্ঠান।"
"জাতীয় সংকট মোকাবিলা, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী বারবার পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।"
তিনি বলেন, "সেনাসদস্যদের শৃঙ্খলা, দক্ষতা, আত্মত্যাগ ও কর্তব্যনিষ্ঠা দেশের মানুষের মনে সেনাবাহিনীর প্রতি গভীর আস্থা ও মর্যাদা সৃষ্টি করেছে।"
এই মর্যাদা অটুট রাখতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ এবং সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, "আমি একটি সেনা পরিবারে বেড়ে উঠেছি। ফলে সেনাসদস্যদের কাছে এলে আমার শৈশবের স্মৃতি ফিরে আসে এবং তাঁদের সঙ্গে সময় কাটাতে আমার ভালো লাগে।"
তিনি আশা প্রকাশ করেন, "বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভবিষ্যতে দেশীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আরও সুনাম, মর্যাদা ও পেশাগত স্বীকৃতি অর্জন করবে।"
সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মান ধরে রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন