প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশে জন্মগত হৃদ্রোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা প্রদানের লক্ষ্যে চাইল্ড হার্ট ট্রাস্ট বাংলাদেশ (সিএইচটি) একটি বিশেষায়িত শিশু হৃদ্রোগ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করতে ইচ্ছুক। ইতিমধ্যে তারা রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং রেফারেল ব্যবস্থাকে জাতীয় পর্যায়ে সুসংহত করার জন্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি জাতীয় গাইডলাইন তৈরি করার পরিকল্পনাও করেছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) রাজধানীর মিরপুরে ট্রাস্টের ১২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় ‘ফ্রি ফ্রাইডে ক্লিনিক’-এর মাধ্যমে জন্মগত হৃদ্রোগে আক্রান্ত শিশুদের জন্য বিনা মূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ, ফলোআপ এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়।
অনুষ্ঠানে সিএইচটি-এর প্রেসিডেন্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. নুরুন্নাহার ফাতেমা মন্তব্য করেন, দীর্ঘ সময় ধরে নিজেদের ব্যক্তিগত অর্থ, জাকাত, বন্ধু-স্বজনের অনুদান এবং স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগের মাধ্যমে ট্রাস্টটি পরিচালিত হয়েছে। তাদের ভবিষ্যতের লক্ষ্য হলো একটি আন্তর্জাতিক মানের শিশু হৃদ্রোগ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা। এ জন্য জমি খোঁজা হচ্ছে এবং সরকারি পরিত্যক্ত ভবন অথবা স্থাপনা ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া যায় কি না, তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে। সরকার যদি সুযোগ দেয়, তাহলে ক্রস-সুবসিডি মডেলের (সচ্ছলদের টাকায় দরিদ্রদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা) মাধ্যমে হাসপাতালটি টেকসইভাবে পরিচালনা করা সম্ভব।
অধ্যাপক ডা. নুরুন্নাহার ফাতেমা আরও বলেন, দেশে শিশুদের জন্য এখনো কোনো বিশেষায়িত সরকারি হৃদ্রোগ হাসপাতাল নেই। সরকারের ‘ইন্টিগ্রেটেড ম্যানেজমেন্ট অব চাইল্ডহুড ইলনেস’ (আইএমসিআই) কর্মসূচির আওতায় জন্মগত হৃদ্রোগ অন্তর্ভুক্ত হলে ইউনিয়ন ও গ্রামপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরাও প্রাথমিকভাবে রোগ শনাক্ত করে দ্রুত বিশেষায়িত কেন্দ্রে পাঠাতে পারবেন।
উন্নত দেশগুলোতে গর্ভাবস্থার ১১ থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যেই জটিল জন্মগত হৃদ্রোগ শনাক্ত করা সম্ভব হলেও, বাংলাদেশে বেশিরভাগ রোগী আসে একদম শেষ পর্যায়ে। যা চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও জটিল করে তোলে বলে জানান এই চিকিৎসক।
অনুষ্ঠানে চাইল্ড হার্ট ট্রাস্ট বাংলাদেশের অন্যতম উদ্যোক্তা মেজর জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. মুসা খান বলেন, বাংলাদেশে প্রতি হাজার নবজাতকের মধ্যে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন জন্মগত হৃদ্রোগ নিয়ে জন্মায়। কিন্তু তাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সময়মতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে পৌঁছাতে পারে না। সমাজের বিত্তবান এবং করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে এলে এই শিশুদের জীবন রক্ষা করা সহজ হবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে চাইল্ড হার্ট ট্রাস্ট বাংলাদেশের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, ট্রাস্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারি জেনারেল ও নির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন