প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) হরিজন পল্লীতে বাণিজ্যিকভাবে শূকর পালন করা হচ্ছে। খামারের দূর্গন্ধে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে শুধু হরিজন পল্লীর বাসিন্দা নয়, বরং পল্লী ছাড়া আশেপাশের হাজারও মানুষও সমস্যায় পড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, হরিজন পল্লীর বাসিন্দা ছাড়াও বহিরাগতরা এখানে শূকর পালন করে কেনাবেচা করছে।
রাবির পক্ষ থেকে তথ্যমতে, হরিজন পল্লীতে স্বীকৃত কোনো শূকর পালনের সুযোগ নেই। এতে আশেপাশের মানুষের অসুবিধা হবে বলে জানানো হয়েছে। শূকর পালন করতে দেওয়া যাবে না, এমন বিষয় আগে থেকেই স্থির রয়েছে।
জানা গেছে, উল্লেখযোগ্যভাবে এই হরিজন পল্লীতে ৯৬ ঘরে বসবাস করে প্রায় ৫০০ এর অধিক মানুষ। সেই সঙ্গে আশেপাশে বসবাস করছে কয়েক হাজার মানুষও।
সরেজমিনে রাবির হরিজন পল্লীতে গিয়ে দেখা যায়, পল্লীর পূর্বে পুকুর পাড়ে ১৩টি শূকরের খামার নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে প্রতি খামারে ৫ থেকে ১৫টি করে শূকর পালিত হচ্ছে। এই শূকরগুলোকে রাবির বিভিন্ন হল এবং শহরের বিভিন্ন হোটেল ও রেস্টুরেন্টের নষ্ট খাবার খাওয়ানো হচ্ছে। সেই খাবারগুলো পোঁচে গিয়ে দূর্গন্ধ সৃষ্টি করছে। পুকুর পাড়ে বসবাস করা মানুষগুলো তাই অত্যন্ত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সেখানে একজন বাসিন্দা বলেন, "নয়জন শূকর পালন করে টাকা খাই। আমরা দূর্গন্ধ খাই। সবচেয়ে খারাপ লাগে খাওয়ার সময় গন্ধ বের হলে।" তিনি জানান, অতিথি আসলে লজ্জায় পড়তে হয়। এই বিষয়টি পাড়ার সভাপতি জানেন এবং নিষেধ করেছেন, কিন্তু কোন কার্যকরী পদক্ষেপ হয়নি।
এছাড়া হরিজন পল্লীর উত্তরে রেলওয়ে বস্তি ও পূর্বে বুধপাড়া গণির মোড় অবস্থিত। এই সমগ্র এলাকায় চলাচল করা মানুষ অত্যন্ত অসুবিধায় রয়েছে। স্থানীয়রা একাধিক বার রাবি হরিজন পল্লীর সভাপতি শিবু কমার রায়কে বিষয়টি জানিয়েছেন। রোববার (১১ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১ টায় রেলওয়ে বস্তির বাসিন্দা সেলিম এসব অভিযোগ জানান।
তিনি বলেন, "দূর্গন্ধে খেতে বসা যায় না। অনেক সময় দূর্গন্ধের কারণে বমি পর্যন্ত হয়ে যায়। আমরা এলাকার মানুষের পক্ষ থেকে রাবি প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি।"
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে পল্লীতে শূকর পালনকারীদের বাড়ির ঠিকানায় চিঠি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সভাপতি শিবু কমার রায় বলেন, "এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। আমি তাদের চিঠি দিচ্ছি যাতে তারা শূকর পালন বন্ধ করে। এতে মানুষের সমস্যা হচ্ছে।"
চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, "আপনাদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, গত পূজার (২০২৫) সময় আপনারা শূকর পালন নিয়ে এলাকাবাসী ও সম্মানীয় ব্যক্তিদের অভিযোগের ভিত্তিতে যে দূর্গন্ধ হয়, সে বিষয়ে কথা দিয়েছিলেন এক মাসের মধ্যে এটি বন্ধ করবেন। কিন্তু আপনি তা রাখেননি। পরবর্তীতে যদি শূকর পালন বন্ধ না করা হয়, তবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"
হরিজন পল্লীতে শূকর পালন করার একাধিক বাসিন্দা জানায়, তারা সামান্য সংখ্যায় পালন করতে পারেন এবং অন্য মানুষের সমস্যা হবে না। কিন্তু বাণিজ্যিকভাবে পালন করার কারণে দূর্গন্ধে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে রাবি হরিজন পল্লির সভাপতি শিবু কমার রায় জানান, "তাদের ব্যবসা তিন বছর ধরে চলছে। তারা বিভিন্ন এলাকায় শূকর সরবরাহ করে। একেক জনের ১০ থেকে ১৫টি শূকর রয়েছে। শূকরের খামারের দূর্গন্ধের কারণে পল্লীর মানুষ ছাড়াও আশেপাশের মানুষেরা সমস্যায় পড়ছে। তাদের শূকর পালন বন্ধের জন্য চিঠি দেওয়া হচ্ছে। যদি তারা বন্ধ না করে, তাহলে রাবি কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।"
এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলিম বলেন, "আমি আগে সেখানে গিয়েছিলাম, তবে তা চোখে পড়েনি। যদি সত্যি তারা সেখানে শূকর পালন করে থাকে, তবে তা বন্ধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেখানে শূকর পালন করতে দেওয়া যাবে না। আমি দ্রুত আবারও সেখানে যাব।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন