প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সরকারী চাকরিজীবীদের বেতন বাড়াতে নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা কমিটির কাজ এখন শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। আর দু-তিনটি সভা করে তারা সুপারিশ চূড়ান্ত করবে। পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশের মন্ত্রিসভা অনুমোদন দেওয়ার পরে সরকারের প্রস্তুতি চলছে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে নতুন বেতনকাঠামোর গেজেট প্রকাশের জন্য।
মহানগর ডেস্কের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
২০১৫ সালের অষ্টম বেতনকাঠামোর সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামোর মূল বেতন ও ভাতা যাতে দুই বছরে একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা যায়, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার ওপর ছেড়ে দিচ্ছে পর্যালোচনা কমিটি।
বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা কমিটির সভাপতি ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে গতকাল বুধবার সচিবালয়ে এই কমিটির ষষ্ঠ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বেতন কমিশনের সুপারিশের বিভিন্ন দিক নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে। এ ছাড়া আগের বেতন কাঠামোর ঘাটতির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
সভায় অংশ নেয়া পর্যালোচনা কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে আরও দুই থেকে তিনটি সভায় বসতে হবে। এখন প্রতিটি সভায় খুঁটিনাটি দিকগুলো পর্যালোচনা করছি। নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ যাতে না থাকে, সে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
অষ্টম বেতন কাঠামোতে বেশ কিছু ভুল ছিল জানিয়ে ওই সদস্য বলেন, নতুন বেতন কাঠামোতে যাতে কোন ধরনের ভুল না থাকে, সে বিষয়ে সাবধানতার সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে। ২০১৫ সালে অষ্টম বেতন কাঠামো ঘোষণার পর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা আন্দোলনে নেমেছিলেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষকের বেতন কীভাবে বাড়বে, সে বিষয়ে কিছু বলা ছিল না। পরে বেতন বৈষম্য দূরীকরণ-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে এসব বিষয়ের সমাধান করা হয়।
পর্যালোচনা কমিটি সূত্র জানায়, কমিটির সদস্যরা মূল বেতন এবং ভাতা কার্যকরের বিষয়ে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে একমত হয়েছেন। তবে বিষয়টি চূড়ান্ত না করে মন্ত্রিসভা থেকে সিদ্ধান্ত চায় পর্যালোচনা কমিটি। নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনার সম্মতি দিয়েছেন কমিটির বেশির ভাগ সদস্য। সব গ্রেডে সমান হারে বেতন না বাড়িয়ে নিচের গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলকভাবে বেশি বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন তারা। মূল বেতনের সঙ্গে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াত ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতা পুনর্বিন্যাসের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
২০২৫ সালের ২৭ জুলাই নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার। ওই কমিশন গত ২১ জানুয়ারি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। অন্তর্বর্তী সরকার নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন না করে নির্বাচিত সরকারের হাতে সেই ভার দিয়ে বিদায় নেয়।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় কমিটি গঠন করে সরকার।
একজন সদস্য বলেন, অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের দুই বছর ২১ দিন পরে নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশ করা হয়েছিল। নবম বেতন কমিশন গঠনের ১১ মাস ২১ দিন অতিবাহিত হয়েছে। এর মধ্যে সরকারে পরিবর্তন এসেছে। ১০ বছরের বেশি সময় ধরে আগের কাঠামোতে বেতন পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। বিষয়টি মাথায় রেখেই কমিটি দ্রুততার সঙ্গে পর্যালোচনার কাজ করছেন।
সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর পরপর নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হচ্ছিল। তবে ২০১৫ সালের পর নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়নি। ফলে বেতন গ্রেডের শেষ ধাপে পৌঁছে যাওয়ায় অনেকের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে গেছে। একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন বেতন কাঠামোয় বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির ধাপ বাড়ানো হতে পারে।
অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশ থেকে কোন কোন বিষয়গুলোর রদবদল হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চাননি পর্যালোচনা কমিটির সদস্যরা। একজন কর্মকর্তা বলেন, মন্ত্রিসভাতেই বেতন কাঠামো চূড়ান্ত হবে। এর ফলে বিষয়টি এতটাই গোপনীয় রাখা হয়েছে, পর্যালোচনা কমিটির বৈঠকের অ্যাজেন্ডাও আগে নির্ধারণ করা হয় না।
বেতন কাঠামোর কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, নতুন বেতন কাঠামোর অনুযায়ী ভাতা নিয়ে বেশ কয়েকটি এসআরও জারি করতে হবে। এখন সেসব এসআরওর খসড়া তৈরি করা হচ্ছে। পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশ চূড়ান্ত হলে এসআরওগুলো হালনাগাদ করে রাখা হবে। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসআরও জারি করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন