প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
'গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী না হলে টেকসই জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়। দেশের উন্নয়নের প্রকৃত ভিত্তি হচ্ছে গ্রাম। গ্রামকে উন্নয়নের মূলধারায় এনে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষির আধুনিকায়ন, সমবায়ভিত্তিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের মাধ্যমে একটি আত্মনির্ভরশীল গ্রামীণ অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে।'
জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য রাখতে গিয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক মিজ তাছলিমা আক্তার এই কথা বলেন।
সোমবার (৬ জুলাই) ‘উন্নত পল্লী সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি), বরগুনার যৌথ উদ্যোগে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সকাল দশটায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মিজ তাছলিমা আক্তার বলেন, 'গ্রামই বাংলাদেশের প্রাণ। গ্রামীণ অর্থনীতি যত শক্তিশালী হবে, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও তত সমৃদ্ধ হবে। তাই গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা গড়ে তোলার উদ্যোগকে আরও গতিশীল করতে হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) দীর্ঘদিন ধরে সমবায়, ক্ষুদ্র ঋণ, প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এসব কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারণের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জন সম্ভব।'
জেলা প্রশাসক বলেন, 'স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্য অর্জনে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে পিছিয়ে রাখার কোনো সুযোগ নেই। প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি, আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থা, যুব উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে একটি টেকসই ও আত্মনির্ভরশীল গ্রামীণ অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে। সরকারের উন্নয়নের সুফল যেন সমাজের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়, সে লক্ষ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী ও সাধারণ জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।'
তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, 'পল্লী উন্নয়ের প্রতিটি কর্মসূচি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমেই উন্নয়নের প্রকৃত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।'
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো গ্রামীণ উন্নয়ন। কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প, সমবায় এবং নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি উন্নয়ন কর্মসূচির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তন্ময়, বরগুনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মনির হোসেন কামাল, বিআরডিবি বরগুনার উপ-পরিচালক সরদার রফিকুল ইসলাম, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, সমাজসেবা অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাগণ, জেলা বিএনপির নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা সালেহ ফারুক, জেলা কৃষক দলের সভাপতি মাসুদুর রহমান, গণমাধ্যমকর্মীরা এবং বিআরডিবির সুফলভোগী সদস্য সমিতির সদস্যবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দুইজন সফল উদ্যোক্তার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তাদের মাঝে ঋণ বিতরণ, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান এবং অর্ধশতাধিক সুফলভোগী সদস্যের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
বিআরডিবি, বরগুনার উপ-পরিচালক সরদার রফিকুল ইসলাম বলেন, জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপনের মূল উদ্দেশ্য হলো গ্রামীণ উন্নয়ন কার্যক্রমে মানুষের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং সফল উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা। বিআরডিবি ঋণ সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন