প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম বলেছেন, ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের চ্যালেঞ্জ : আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও জাতীয় অগ্রাধিকার’ শীর্ষক সেমিনারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বর্তমান একটি রাষ্ট্রহীন, বিচ্ছিন্ন ও হতাশ প্রজন্ম বেড়ে উঠছে। এটি হতে পারে উগ্রবাদ এবং সশস্ত্র কর্মকাণ্ডের প্রজনন ক্ষেত্র।
তিনি আরও জানান, ‘ইতিহাস বলে, যে আমরা যদি অবহেলা করি, তবে এই মানুষগুলো একদিন আমাদের বিরুদ্ধেই অস্ত্র তুলে নেবে। সেই দিন আসার আগেই আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে।’
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের জন্য কেবল একটি মানবিক ইস্যু নয়, বরং এটি একটি হিউম্যান সিকিউরিটি উদ্বেগ, একটি জাতীয় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি ক্রমবর্ধমান হুমকি।
তিনি সমস্যা সম্পর্কে জানান, রোহিঙ্গা সমস্যা ছিল একটি পরিকল্পনা ছাড়া আমন্ত্রিত বোঝা। বর্তমানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৬ থেকে ১১টি সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। ক্যাম্পের মধ্য দিয়ে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক অবাধে চলাচল করছে। ২০১৭ সাল থেকে পুলিশ ২ হাজার ৪০০-এর বেশি মামলা করেছে এবং ২৬০ জন মানুষ নিহত হয়েছে। ক্যাম্প এলাকায় ৪৪ বর্গকিলোমিটার বন উধাও হয়ে গেছে।
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, প্রতিদিন ক্যাম্পগুলোতে ৯৬টি শিশু জন্ম নিচ্ছে। ফলে এক রাষ্ট্রহীন, বিচ্ছিন্ন, হতাশ জনগণের প্রজন্ম বেড়ে ওঠছে যেখানে ভবিষ্যৎ নেই। এ পরিস্থিতি উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডের জন্য একটি উর্বর জমি তৈরি করে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সংকট সৃষ্টিকারী নয়, তবে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকেই এর দায় বহন করতে হচ্ছে। বাংলাদেশের অসাধারণ উদারতাকে অনির্দিষ্টকালের দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের দায়িত্ব স্থায়ীভাবে গ্রহণ করা বাংলাদেশ সরকারের জন্য কার্যকর নয়।
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, প্রত্যাবাসনের জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য ব্যবস্থা ও কূটনৈতিক চাপ প্রয়োজন। সাত বছর ধরে প্রত্যাবাসন না হওয়ায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাহায্যের প্রত্যাশা করছে।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটকে একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত। এই সংকটের স্থায়ী সমাধান হিসেবে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও সুনিশ্চিত প্রত্যাবাসনের ওপর জোর দেন।
শেয়ার করেছেন ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম, ‘মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশে থাকা প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনের জন্য যোগ্য হিসেবে যাচাই করেছে।’ তবে রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা রয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক চাপ কমানো এবং গণহত্যার মামলার প্রেক্ষাপটেও একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন