প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনের কৌতুহলি অংশ হিসেবে সরকার একটি আধুনিক, শক্তিশালী ও টেকসই আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে পুঁজিবাজার খাতে ব্যাপক কাঠামোগত সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে সরকারের লক্ষ্য পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও অর্থায়নের প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলা।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ব্যাংকনির্ভর অর্থায়নের ওপর চাপ কমাতে নতুন উৎস তৈরি করা হবে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য। এ লক্ষ্যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের কার্যকর প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করার। পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা হবে এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার করা হবে।
একই সঙ্গে শেয়ারবাজারের পাশাপাশি করপোরেট বন্ড মার্কেট, মিউচুয়াল ফান্ড, গ্রিন বন্ড, সুকুকসহ অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ উপকরণের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। তিনি বলেন, যোগ্য কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহিত করতে তালিকাভুক্তির ধাপগুলো পর্যালোচনা ও সরলীকরণ করা হবে। প্রতিবেদন ও তথ্য প্রকাশের শর্তাবলী সংশোধন করে আরও সহজ, সুস্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত করা হবে, যাতে ভালো কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে আসতে আগ্রহী হয়।
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের বিকল্প উৎস গড়ে তুলতে করপোরেট বন্ড মার্কেট সম্প্রসারণ করা হবে। এছাড়া, স্থানীয় সরকার ও নগর অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে অর্থায়নের জন্য পৌর বন্ড (মিউনিসিপ্যাল বন্ড) ইস্যুর প্রয়োজনীয় কাঠামো প্রণয়ন করা হবে।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা জিডিপির ১৩.৭ শতাংশ এবং বিগত অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে মোট ৩ লাখ কোটি টাকাসহ মোট উন্নয়ন ব্যয় ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা এবং পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে মোট ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা জিডিপির ১০.২ শতাংশ। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৯১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩.৬ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ঘাটতির মধ্যে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস থেকে নির্বাহ করার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা নির্বাহ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন