প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শরীয়তপুরের জাজিরায় সরকারি অফিসের সময়সূচি অনুসরণ করে এবং নামের পাশে ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহার করে, মো. মাসুদ রানা নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘ তিন বছর ধরে চিকিৎসাবাণিজ্য চালিয়ে আসছেন। তিনি নিজেকে পল্লি চিকিৎসক দাবি করছেন, তবে তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি নেই। একদিকে, তিনি একটি ‘ম্যাজিক মেশিন’ (অনুমোদনহীন রোগ নির্ণয় যন্ত্র) রোগীদের শরীরে ঠেকিয়ে ‘আলাদীনের চেরাগের’ মতো মুহূর্তেই সব রোগ বলে দেওয়ার অবলম্বন তৈরি করেছেন, অন্যদিকে এভাবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে তিনি প্রতারণা করে আসছেন।
মঙ্গলবার (২ জুন) জাজিরার নাওডোবায়, মাসুদ রানার চেম্বারে সরেজমিনে গিয়ে আরটিভি টিম এমন চাঞ্চল্যকর প্রতারণার চিত্র দেখে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে মাসুদ নাওডোবার আলম ব্যাপারীর প্রজেক্টের ভেতরে একটি আবাসিক এলাকার বাসা ভাড়া নিয়ে কাজ করছেন। এই বাসার একপাশে রোগী দেখার জন্য একটি চেম্বার তৈরি করা হয়েছে এবং অন্যপাশে একটি ফার্মেসি গড়ে তোলা হয়েছে।
এর আগে, তিনি মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার মুন্সিরহাট এলাকায় প্রথম চেম্বার খোলেন। সেখানে অনুমোদনহীন মেশিনের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করার অভিযোগে প্রশাসন তাকে জরিমানা করে এবং তার মেশিন জব্দ করে। এরপর তিনি জাজিরায় গিয়ে আবারও একই পন্থায় প্রতারণা শুরু করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভুয়া ডাক্তার মাসুদ রানাকে দেখাতে অসংখ্য রোগী ৫০০ টাকা করে ভিজিট দিয়ে টোকেন হাতে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। তবে, চেম্বারে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভেতরের চিত্র বদলে যায়। রোগীদের রেখেই মাসুদ রানা তড়িঘড়ি করে গা ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
একপর্যায়ে তাকে কৌশলে চেম্বার থেকে বের করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে, ক্যামেরার সামনে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন।
মাসুদ রানা জানান, চিকিৎসা দেওয়ার জন্য তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা অ্যাকাডেমিক শিক্ষা নেই। তিনি জেনারেল লাইনে পড়াশোনা করেছেন। তবে, তার বাবা ছিলেন একজন পল্লি চিকিৎসক, আর সেই সূত্রে তিনি বাবার কাছ থেকে মূলত ওষুধের নাম ও পরিচয় হাতে-কলমে শিখেছেন। ফলে, সেই একটুখানি ধারণাকে পুঁজি করেই তিনি বছরের পর বছর ধরে মানুষের জীবন নিয়ে বিপজ্জনক এই খেলা খেলছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য কামাল ব্যাপারী বলেন, আমাদের প্রজেক্টে একজন ডাক্তার রোগী দেখছেন, এমনটা তিনি শুনেছেন আগে। তবে, তার জানামতে, মাসুদ রানের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি নেই। তাই তিনি পরিচিত কাউকে এই নামধারী ভুয়া ডাক্তারের কাছে যেতে নিষেধ করেন।
প্রতারণার শিকার হওয়া প্রজেক্টের স্থানীয় বাসিন্দা পলি আক্তার বলেন, এই ভুয়া ডাক্তার শুরুতে প্রজেক্টের ভেতরে তাদের বাসার পাশেই একটি বাসা ভাড়া নিয়ে মানুষের সাথে চিকিৎসার নামে চরম প্রতারণা শুরু করে। পরে, স্থানীয়রা একজোট হয়ে তাকে ওই এলাকা থেকে বের করে দেয়। শুনেছেন পরে, তিনি প্রজেক্টের একদম শেষ মাথায় অন্য একটি বাড়িতে বাসা ভাড়া নিয়ে আবারও এই প্রতারণা চালাচ্ছেন। প্রশাসনের উচিত এই প্রতারকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।
জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) রোমান বাদশা বলেন, প্রথমত, একজন পল্লি চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন বা ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার কোনো আইনি সুযোগ নেই। দ্বিতীয়ত, মাসুদ রোগ নির্ণয়ের জন্য যে ধরনের ডিভাইস বা মেশিন ব্যবহার করছেন, সেটির কোনো অনুমোদন বাংলাদেশে নেই। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায়, এই ভুয়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন