প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজশাহী থেকে ঢাকাসহ দেশের সব রুটে হঠাৎ বাস চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দিয়েছেন মোটর শ্রমিকরা। শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি গঠন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি ভণ্ডুল হওয়ার পরে সোমবার সন্ধ্যায় অনির্দিষ্টকালের জন্য এই কর্মবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে করে দূরপাল্লা ও আন্তঃজেলা রুটের শত শত যাত্রী চরম ভাবে দুর্ভোগে পড়ছেন।
জানা গেছে, শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি গঠন নিয়ে মতবিরোধের কারণেই এ কর্মবিরতি ঘটছে। আকস্মিকভাবে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের কারণে রাজশাহী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন বাস কাউন্টারে অপেক্ষমাণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। অনেক যাত্রী বিকল্প পরিবহনের খোঁজে ছোটাছুটি করতে বাধ্য হন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রপরিচিত মতে, সোমবার বিকেল ৪টায় রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি গঠন ও নির্বাচনের আয়োজন নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পাঁচ সদস্যের একটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। প্রস্তাবিত কমিটিতে জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, শ্রম অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, রাজশাহী মহানগর পুলিশের প্রতিনিধি এবং শ্রমিক ফেডারেশনের একজন প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
তবে, এই নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে বাস মালিক সমিতির প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান জেলা শ্রমিকদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য এরশাদ আলী পল্টু। এই সময় বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলালের সঙ্গে তার তীব্র বাকবিতণ্ডা ও হট্টগোল সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে কোনও সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠকটি শেষ হয়ে যায়।
বৈঠক শেষে শ্রমিকরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে ফিরে তাৎক্ষণিকভাবে রাজশাহী থেকে চলাচলকারী সব রুটের বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেন। ফলে ঢাকা সহ বিভিন্ন দূরপাল্লা ও আন্তঃজেলা গন্তব্যের যাত্রীরা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন।
এদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাস চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য এরশাদ আলী পল্টু বলেন, “শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মবিরতি চলবে।”
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন