প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরান আবারও জাপানি কোম্পানির কাছে তেল বিক্রির কার্যক্রম শুরুর জন্য আলোচনা চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তির পর বাজার সম্প্রসারণের এই প্রক্রিয়া চলছে। ওয়াশিংটনের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার ছাড়ের আওতায় চলছে এই আলোচনা। সম্ভাব্য ক্রেতারা অবশ্য ছাড়ের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চয়তা চাইছেন। ৬০ দিনব্যাপী আলোচনার অংশ হিসেবে এই ছাড়ের বিষয়টি গত ২২ জুন ঘোষণা করা হয়েছিল। এই ছাড়ের মেয়াদ ২১ আগস্ট শেষ হবে। ইরান থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার জন্য বর্তমানে জাপানের তিনটি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্যতা যাচাই করছে। এটি ২০১৯ সালের পর জাপানের প্রথম এমন উদ্যোগ। স্পর্শকাতর বিষয়বস্তু হওয়ায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের দুটি সূত্র এই তথ্য দিয়েছে। এছাড়া পশ্চিমা শিল্প খাতের একটি সূত্র জানিয়েছে, জাপান ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে তেল বিক্রির সম্ভাবনা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হচ্ছে। জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের (মেটি) একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তিনি এ ধরনের কোনো বিষয় সম্পর্কে সচেতন নন। রয়টার্সের পক্ষ থেকে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে কোন সাড়া দেয়নি। ২০১৮ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে আসার পর, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা কঠোর হয়। এর ফলে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত এবং ইউরোপীয় দেশগুলো ইরান থেকে তেল ক্রয় বন্ধ করে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হরমুজ প্রণালীতে ঝুঁকি। জাপানে কোনো ক্রয়-বিক্রয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া বেসরকারি কোম্পানিগুলোর এখতিয়ারভুক্ত। দেশটির বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, পণ্য পরিবহনের সময় এবং বিদ্যমান চুক্তির বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে কোন চুক্তি কার্যকর হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে, ট্যাঙ্কার চলাচলের নিরাপত্তার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, টোকিও ও তেহরানের মধ্যে পণ্য পরিবহনের সময়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নিষেধাজ্ঞা-ছাড়ের মেয়াদ বাড়ানো প্রয়োজন। ওই কর্মকর্তা বলেন, ইরানের খার্গ দ্বীপ থেকে পণ্য বোঝাই করা হবে এবং জাপানি মালিকানাধীন বা পরিচালিত ট্যাঙ্কার ব্যবহার করা হবে। ইরানের তেল মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান সারা বিশ্বের বাজারে তাদের প্রথাগত ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তাদের বলা হয়েছে যে, যদি কোনো শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়, তবে ইরান চায় তারা যেন পুনরায় তেল খরিদ শুরু করে। জাতিসংঘের নৌ-পরিবহন বিষয়ক সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীর মধ্যাঞ্চলে تقریباً ৮০টি ভাসমান মাইন রয়েছে। জাপানের একটি বড় তেল শোধনাগার কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, বীমা সুবিধা নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বাণিজ্যিক সূত্র ও বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সাময়িক নিষেধাজ্ঞা-ছাড়ের বিষয়টি এশিয়ার পর্যাপ্ত মজুদসম্পন্ন শোধনাগারগুলোকে নতুনভাবে ক্রয়াদেশ দিতে উৎসাহিত করা নয়। তবে চীনের স্বাধীন শোধনাগারগুলো প্রধান ক্রেতা হিসেবে থেকে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন