প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের হরিয়ানার ফরিদাবাদে, একটি বেসরকারি স্কুলের ভেতরে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে এক স্কুলশিক্ষিকাকে হত্যা করা হয়েছে। সিসিটিভিতে ধারণ হওয়া এই হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে ফরিদাবাদের সিকরোনা গ্রামের একটি বেসরকারি স্কুলে ২৯ বছর বয়সী শিক্ষিকা সন্ধ্যাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। স্কুলটি একটি পুলিশ ফাঁড়ি থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরে অবস্থিত।
স্কুল প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মুখোশ পরা এক যুবক স্কুলে এসে শিক্ষিকা সন্ধ্যার সঙ্গে দেখা করতে চান। এই খবর পেয়ে সন্ধ্যা স্কুলের প্রধান ফটকে গেলে অভিযুক্ত তাকে বাইরে ডেকে নেন। এরপরই হামলাকারী ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা শুরু করেন।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে হামলাকারী শিক্ষিকার মুখ, গলা ও বুকে ৩০টিরও বেশি ছুরিকাঘাত করেন। একপর্যায় সন্ধ্যা মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও হামলা থামেনি অভিযুক্ত। বরং মাটিতে পড়ে থাকা অবস্থায়ও তাকে বারবার ছুরিকাঘাত করা হয়।
চিৎকার শুনে স্কুলের এক প্রশাসক ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারী ছুরি নিয়ে তার দিকে তেড়ে যান। আত্মরক্ষার জন্য তিনি সরে গেলে অভিযুক্ত আবারও শিক্ষিকার কাছে ফিরে গিয়ে আরও কয়েক দফা ছুরিকাঘাত করেন। পরে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় সন্ধ্যাকে স্থানীয় আল-ফালাহ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্কুলের প্রশাসক জানান, তিনি নিজের কক্ষে বসে থাকা অবস্থায় করিডোর থেকে চিৎকার শুনে বাইরে বেরিয়ে আসেন। তখন দেখেন, এক ব্যক্তি শিক্ষিকা সন্ধ্যাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করছেন। বাধা দিতে গেলে হামলাকারী তাকে ছুরি দেখিয়ে ভয় দেখান।
পুলিশ জানায়, ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যেই ২১ বছর বয়সী অভিযুক্ত অমিতকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ফরিদাবাদের কোট গ্রামের বাসিন্দা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে অমিতের সঙ্গে সন্ধ্যার পরিচয় হয়েছিল। এরপর থেকে তিনি বারবার শিক্ষিকার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা ও তাকে অনুসরণ করতেন। এতে বিরক্ত হয়ে সন্ধ্যা তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন এবং কয়েক দিন আগে শ্লীলতাহানির অভিযোগও দায়ের করেন। সে সময় অভিযুক্ত প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছিলেন।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ওই অভিযোগের জেরে প্রতিশোধ নিতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
সূত্র: এনডিটিভি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন