প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ বিষয়ের প্রেক্ষাপটে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, আজ শুরু হচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর মহাপরিচালক পর্যায়ের ৪ দিনব্যাপী সীমান্ত সম্মেলন।
আজ সোমবার (৮ জুন) শুরু হওয়া এই সম্মেলন বর্তমান সরকারের সময়ের প্রথম সীমান্ত সম্মেলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিম এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্ত দিয়ে বিএসএফের পক্ষ থেকে নারী ও শিশুসহ বহু মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসছে। তবে, বিজিবির কার্যক্রমের মাধ্যমে বেশ কিছু অঘটন প্রতিরোধ করা হয়েছে।
সীমান্তে ঘটে যাওয়া এ ধরনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্ক, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিজিবি জানিয়েছে, এবারের সম্মেলনে তাদের প্রধান এজেন্ডা হচ্ছে সীমান্ত হত্যা এবং পুশ-ইন বিষয়ক। এসব সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য উপস্থাপন করে তারা শক্ত প্রতিবাদ জানাবে। একই সঙ্গে বিএসএফের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও উপস্থাপন করবে।
বিজিবি সদর দপ্তরের সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে ঘটে যাওয়া একাধিক পুশ-ইন ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সম্মেলনে উপস্থাপন করা হবে। ৩ থেকে ৬ জুন পর্যন্ত চার দিনে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে দু'শোর বেশি ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে, যা বিজিবি সফলভাবে প্রতিহত করেছে।
২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত অন্তত দুই হাজারের বেশি লোককে সীমান্তের মাধ্যমে ঠেলে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে কিছু ভারতীয় নাগরিক এবং রোহিঙ্গা অন্তর্ভুক্ত বলে দাবি করা হয়েছে।
বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব ঘটনায় কোনো ধরনের কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অথবা নাগরিকত্ব যাচাই ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল।
অন্যদিকে, ভারতীয় পক্ষের দাবি, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিরা বাংলাদেশি নাগরিক। তবে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যাচাই ছাড়াই কাউকে গ্রহণ করা হবে না।
বিজিবি মহাপরিচালকের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল সম্মেলনে অংশগ্রহণ করছে। এতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মকর্তারাও রয়েছেন। অন্যদিকে বিএসএফ মহাপরিচালকের নেতৃত্বে ভারতের প্রতিনিধি দলও অংশ নিচ্ছে, যেখানে দেশটির স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও আছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন