প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আমের মৌসুম প্রায় শেষের দিকে অবস্থান করছে, কিন্তু চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন আম বাজারে ক্রেতা এবং বিক্রেতাদের উপস্থিতি নজর কাড়ার মতো। মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বলছে, মৌসুমের শেষদিকে বেচাকেনায় গতি বৃদ্ধি পেলেও পুরো মৌসুমে অধিকাংশ চাষি তাঁদের উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় কাঙ্ক্ষিত দাম পাননি। মৌসুমের শেষভাগে কিছুটা দাম বৃদ্ধির ফলে অনেক চাষির মুখে হতাশার ছাপ রয়েছে। তবুও ব্যবসায়ীরা এবারে দুর্দান্ত ব্যবসা করেছে বলেও শোনা যাচ্ছে।
এদিকে, মৌসুমের শেষের দিকে আশ্বিনা, বারি-৪, বারি-৮, গৌড়মতি, ব্যানানা এবং কাটিমন সহ বিভিন্ন বারোমাসি জাতের আম বিক্রির জন্য কানসাট বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে বেচাকেনা হচ্ছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মণ আমের বেচাকেনা ঘটছে এই আম বাজারে। বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতি শেষ সময়েও মনোযোগ কাড়ছে।
আজ মঙ্গলবার সকালে বিনোদপুর ইউনিয়নের আমচাষি হাসিবুল হাসান বাবুর সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আমের মৌসুম প্রায় শেষের মূহুর্তে। আজ আমি আশ্বিনা আম ৩ হাজার ৮শ’ টাকায় মণ দরে বিক্রি করেছি। তবে এ দাম উৎপাদন ব্যয়ের পরিপ্রেক্ষিতে সন্তোষজনক নয় বলেও তাঁর মন্তব্য।
দুর্লভপুর ইউনিয়নের আমচাষি মনিরুল ইসলাম আজ কানসাট বাজারে প্রতি মণ বারি-৪ আম ৭ হাজার টাকা দরে বিক্রি করেন। তিনি জানান, কয়েক বছর আগে একই জাতের আমের দাম আরও বেশি পাওয়া যেত। তিনি এটাও বলেন যে, এখন কিছুটা বেশি দাম উঠেছে কিন্তু মৌসুমের শুরুতে প্রত্যাশিত মূল্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, আমচাষি এবং গণমাধ্যমকর্মী ফরহাদ আলী কাটিমন ম্যাঙ্গো নিয়ে বাজারে এসে প্রতি মণ ৬ হাজার টাকা দরে বিক্রি করে কিছুটা খুশি হলেও তিনি তাঁর আম নিয়ে হতাশার কথাও তুলে ধরেন।
দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে আমের ব্যবসা করা ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, মৌসুমের শেষদিকে আমের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও এবছর মৌসুমজুড়ে আমের বাজার স্থিতিশীল ছিল না। তবে তাঁর মত ব্যবসায়ীরা চলতি বছর লাভজনক ব্যবসা করেছেন।
আমচাষী আবুল হাসনাত বলেন, জেলার অন্যান্য চার উপজেলার সম্মিলিত উৎপাদনের চেয়ে বেশি আম উৎপাদন হয় শিবগঞ্জ উপজেলায়। একসময় এখানে প্রায় ৮০ শতাংশ বাগানে ফজলি আমের চাষ হতো, কিন্তু গত কয়েকবছর ধরে ফজলি আম হারভেস্টিং করার সময় ব্যানানা, কাটিমন, আম্রপালি ও বারি-৪ সহ নতুন কয়েক জাতের আম বাজারে চলে আসছে। এই কারণে এখন ফজলির পরিবর্তে এসব আমের চাহিদা বেশি থাকে। ফলে চাষিরা ফজলি আমের ন্যায্যমূল্য পান না।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মহারাজপুর এলাকার আমচাষী সেন্টু মিয়া বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে আমের সঙ্গে যুক্ত আমি। দশ বছর আগে আম চাষ করে লাভবান হতাম, কিন্তু গত কয়েকবছর ধরে আমচাষে কাঙ্ক্ষিত লাভ মিলছে না। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেলেও বাজারমূল্য সেই অনুপাতে বাড়ছে না।
শিবগঞ্জ আম আড়ৎদার সমিতির সভাপতি আবু তালেব জানিয়েছেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার লক্ষাধিক মানুষের জীবিকা আমের সঙ্গে জড়িত। উৎপাদন খরচ প্রতি বছর বাড়ছে, কিন্তু সে অনুযায়ী আমের দাম বাড়ছে না। গত কয়েকবছর থেকে চাষিরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। তাই চাঁপাইনবাবগঞ্জের এ আম শিল্প বর্তমানে হুমকির মুখে। এই খাতকে টিকিয়ে রাখতে আম প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে তোলার, গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করার এবং একটি পূর্ণাঙ্গ আম গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করার জোর দাবী জানান তিনি।
এদিকে বর্তমানে কানসাট ও রহনপুরসহ জেলার অন্যান্য আমের বাজারে আশ্বিনা আম প্রতি মন ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা, বারি-৪ ৮ হাজার থেকে ১২ হাজার, গৌড়মতি ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার, কাটিমন ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার এবং ব্যানানা ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আতিকুল ইসলাম বাসসকে বলেন, চলতি মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৯১২ মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হয়েছে। মৌসুমের শেষভাগেও বাজারে আশ্বিনা, গৌড়মতি, ব্যানানা, বারি-৪সহ কয়েক জাতের আমের সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন