প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বকাপের অংশীদারিত্বের বেসরকারিকরণের পরিকল্পনার ফলে ক্রমাগত চাপের সম্মুখীন হচ্ছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। এবার আসন্ন পুনর্নির্বাচনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন তুলে নিয়েছে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আইএফএ)। এর আগে ইংল্যান্ড, ওয়েলস, স্কটল্যান্ড এবং রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডও ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেছিল।
মঙ্গলবার, ইসরায়েল ফিফা সভাপতির দায়িত্বে ইনফান্তিনোকে পুনর্নির্বাচনের জন্য সমর্থন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানায়। আইএফএ সভাপতি মোশে জুয়ারেস ফিফার কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের তথ্য জানান।
ইসরায়েল ১৯৯৪ সাল থেকে উয়েফার সদস্য দেশ। জুয়ারেস নিজেও ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির নির্বাহী কমিটির সদস্য। আর এ কারণে, উয়েফার সঙ্গে ফিফার সাম্প্রতিক মতপার্থক্যের প্রেক্ষাপটে ওই সংস্থার এমন সিদ্ধান্ত অপ্রত্যাশিত নয়।
তবে ইনফান্তিনোর জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে ক্রীড়া সম্পর্ক উন্নয়নে ব্যক্তিগতভাবে তিনি বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
গত এপ্রিলে, ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসে ইনফান্তিনো ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের প্রতিনিধিদলকে একসঙ্গে ছবি তোলার প্রয়াস করেছিলেন। কিন্তু ফিলিস্তিন ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি জিবরিল রাজুব ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি বাসিম শেখ সুলেমানের পাশে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানালে, এই প্রচেষ্টা সফল হয়নি।
সেখানে থেমে থাকেননি ইনফান্তিনো। আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন অনূর্ধ্ব-১৫ টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মুখোমুখি হওয়ার পরিকল্পনাও তার আছে। এ বিষয়ে জুনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
আইএফএর পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক ঘটনাবলী ফিফা এবং উয়েফার বৈশ্বিক ফুটবল পরিচালনার পদ্ধতির মধ্যে একটি 'অভূতপূর্ব আস্থার সংকট' তৈরি করেছে।
চিঠিতে মোশে জুয়ারেস দাবি করেন, দুই সংস্থার মধ্যে মতপার্থক্য এখন গভীর, মৌলিক এবং নীতিগত স্তরে পৌঁছেছে। আইএফএর বোর্ড সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের পর ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করতে হয় বলেও জানান তিনি।
জুয়ারেস বলেন, 'আমাদের আগের সমর্থনের চিঠি প্রত্যাহার করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। আমি আন্তরিকভাবে আশা করি, সব পক্ষের মধ্যে ফলপ্রসূ সংলাপ শেষ পর্যন্ত বিশ্ব ফুটবলের জন্য একটি অভিন্ন, সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি ও দিকনির্দেশনার দিকে ফিরিয়ে আনবে।'
এর আগে উয়েফার সদস্য রাষ্ট্র ইংল্যান্ড, ওয়েলস, স্কটল্যান্ড ও রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডও ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেছে।
তবে এখনো বেশ কিছু শক্তিশালী ফুটবল সংস্থার সমর্থন রয়েছে ইনফান্তিনোর পক্ষে। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনমেবল এবং আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন সিএএফসহ বেশ কয়েকটি দেশ তাকে সমর্থনের কথা জানিয়েছে।
এদিকে, ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সম্প্রতি ইনফান্তিনোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং সতর্ক করে বলেন, ইনফান্তিনোকে সরানোর চিন্তা করা মারাত্মক ভুল হবে।
সব মিলিয়ে, বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে অনিশ্চিত অবস্থা তৈরি হয়েছে। একের পর এক দেশের সমর্থন প্রত্যাহারের ফলে ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ নির্বাচনী পরিকল্পনাগুলো কতটা প্রভাবিত হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন