প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পল্লবীর শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলার রায়ের কার্যকরী হওয়ার সম্ভাবনা তিন মাসের মধ্যে রয়েছে বলে জানান আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
রবিবার, সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ছয় কার্যদিবসের মধ্যে মামলার রায় প্রদান করা হয়েছে। এবং যদি সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাহলে তিন মাসের মধ্যে এটি কার্যকর করা সম্ভব হবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, যদিও আইনে নির্দিষ্ট কোনো সময় বেঁধে দেওয়া নেই, তবুও প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করেই এই মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। তিনি জানান, সরকার রায় নিয়ে সন্তুষ্ট এবং উচ্চ আদালতে এটি বহাল থাকার আশা প্রকাশ করেছেন।
রায় কার্যকর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যদি আইনি ধাপগুলো অনুসরণ না করে দ্রুত কার্যকর করা হয়, তাহলে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠতে পারে। আসামিরা চাইলে উচ্চ আদালতে আপিল করার অধিকার রাখে, এবং সেখানে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, সাত দিনের মধ্যে মামলার নথি ডেথ রেফারেন্স কনফার্মেশনের জন্য হাইকোর্টে পাঠানো হবে। পরে সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে পেপার বুক প্রস্তুত করা হবে এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী শুনানি শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এই দিন রবিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্বপ্না আক্তারকে আদালতে আনা হয়। এরপর সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে প্রিজনভ্যানে করে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছে।
এর আগে, ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর ৭ জুন রায়ের দিন ধার্য করা হয়। মোট চার কার্যদিবসে বিচারকাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং রায়কে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
১ জুন সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। পরবর্তীতে ২ জুন ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। ৩ জুন আসামিরা আত্মপক্ষ সমর্থনের সময় নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।
ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রায়ে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে অপরাধী ঘোষণা করেছেন। এছাড়াও সোহেলকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তাদের সম্পত্তি বিক্রির মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ ভুক্তভোগী পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ১৯ মে সকালে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার ঘর থেকে বের হয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে বাসায় ডেকে নিয়ে যায়। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন