প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) দেশগুলো তাদের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক রাজনৈতিক প্রভাব এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ও অবাধ বাণিজ্যিক চলাচল সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে স্পষ্ট নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চাইছে।
জিসিসিভুক্ত দেশগুলো মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের মিত্রতার ভিত্তিতে নিরাপত্তার নিশ্চিতকরণ বজায় থাকা খুবই জরুরি। একই সঙ্গে, তারা ইরানের সঙ্গে যেকোনও আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ এবং নিরাপত্তা সুরক্ষা বিষয়টিকে নিশ্চিত করতে চায়।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের নির্দিষ্ট কিছু উদ্বেগের কথা যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়ে দিয়েছে। তারা আঞ্চলিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অবহিত থাকতে এবং সম্পৃক্ত থাকতে চান।
রুবিও উল্লেখ করেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেবে না বা এমন কোনও প্রতিশ্রুতি দেবে না, যা উপসাগরীয় অংশীদারদের স্বার্থ, দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার সঙ্গে আপস করে।”
জিসিসি দেশগুলোর আরেকটি উল্লেখযোগ্য দাবি হলো, ইরানের পাল্টা হামলার কারণে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা পুনর্গঠনের জন্য অর্থায়ন। তাদের বক্তব্য হল, এই ক্ষয়ক্ষতি এমন এক যুদ্ধের সময় হয়েছে, যেটি তারা চাননি এবং শুরু থেকেই বন্ধ করার চেষ্টা করেছিল; কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা সেই সংঘাতের মাঝখানে পরেছিল।
বৈঠকে হরমুজ প্রণালীর বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পায়। জিসিসি দেশগুলো জানায়, উপসাগরীয় জলসীমা ব্যবহারের জন্য কোনো ধরনের ফি কিংবা চার্জ আরোপের পক্ষে তারা নয়।
রুবিও বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে- হরমুজ প্রণালীর ব্যবহারের জন্য কোনও ধরনের মূল্য আদায়ের বিষয়ে তাদের কোনো সমর্থন নেই। তার মতে, সংঘাতের আগে এই জলপথের যে পরিস্থিতি ছিল, সেটিতে ফিরে যাওয়ার প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের মনে করিয়ে দিতে হবে যে সংঘাতের আগে হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে চলাচল স্বাভাবিক ছিল। এটি একটি আন্তর্জাতিক জলপথ।”
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। বিশাল পরিমাণে তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। এ কারণে, এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও নৌ চলাচলের স্থিতিশীলতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
জিসিসির উদ্বেগ মূলত আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা এবং ইরান-সম্পর্কিত যেকোনও ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সমঝোতায় নিজেদের ভূমিকা নিশ্চিত করতে কেন্দ্র করে। সূত্র: আল-জাজিরা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন