০২:৩৮ পি.এম
খুলনার গুলিবিদ্ধ আন্তজেলা ডাকাত সর্দার রাজু হাওলাদার ওরফে গালকাটা রাজুকে (৩৮) অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় যাওয়ার সময় আবারও গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। তবে হাইওয়ে পুলিশের দ্রুত তৎপরতায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান। পরে তাকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকায় নেওয়া হয়। মঙ্গলবার (৫ মে) ঢাকার মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে প্রথম দফায় গুলি এবং পরে ঢাকায় যাওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্স নির্ধারিতভাবে গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে আজ সকাল পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করে লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশারেফ হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, রাজুর শারীরিক অবস্থা আগের তুলনায় ভালো। ঢাকায় তার চিকিৎসা চলছে এবং সেখানে রাজধানীর পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। গুলির ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। তবে আইনগত বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আরও জানান, রাজুকে পুলিশি পাহারায় ঢাকায় নেওয়ার সময় রাতের অন্ধকারে অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে গুলির ঘটনা ঘটে। এই বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত ছাড়া সুস্পষ্টভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। ঘটনাটি পূর্বশত্রুতা, আধিপত্য বিস্তার, নাকি কোনো অপরাধী চক্রের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে ঘটেছে, তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বিষয়টিকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। সোমবার (৪ মে) দুপুরে খুলনার লবণচরা থানার কোবা মসজিদ এলাকায় পেটে গুলিবিদ্ধ হন রাজু হাওলাদার। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি প্রথমে পরিচিত এক নারীর বাড়িতে আশ্রয় নেন। তবে পরে অবস্থার অবনতি হলে গোপনে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হলেও ‘পুলিশ কেস’ হওয়ার কারণে তাকে কোথাও ভর্তি করা হয়নি। শেষ পর্যন্ত খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে ‘পরিস্থিতি খারাপ বুঝে’ সঙ্গে থাকা নারী তাকে রেখে পালিয়ে যান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পুলিশকে জানালে রাজুকে আটক করা হয়।অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাত ১২টা ২২ মিনিটের দিকে পুলিশ পাহারায় তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় পাঠানো হয়। পথিমধ্যে রাত সাড়ে ১২টার দিকে রূপসা উপজেলার কুদির বটতলা এলাকায় পৌঁছালে আবারও হামলার শিকার হয় অ্যাম্বুলেন্সটি। সন্ত্রাসীরা ৪-৫ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। খবর পেয়ে কাটাখালী হাইওয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকার পথে এগিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, লবণচরা থানার শিপইয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা রাজুর বিরুদ্ধে খুলনাসহ বিভিন্ন জেলায় হত্যা, ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তার মধ্যে শুধুমাত্র লবণচরা থানাতেই চারটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। রাজু দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন এবং একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের নেতৃত্ব দিতেন। কাটাখালী হাইওয়ে থানার ওসি জাফর আহম্মেদ জানান, লবণচরা থানার একটি দল অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় যাওয়ার পথ চলা অবস্থায় কুদির বটতলা এলাকায় পৌঁছালে কারা যেন সেটি লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে বাড়তি নিরাপত্তা চেয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এরপর পুলিশি নিরাপত্তা দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি থানা এলাকা পার করে দেওয়া হয়। তবে ওই ঘটনায় কেউ আহত হননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন