প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে চীন কারো হস্তক্ষেপ গ্রহণ করবে না, এটি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি জানান, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনগণের স্বার্থে নিজেদের মত করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাকে চীন সমর্থন করে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর নিয়ে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকায় চীনা দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত এ মন্তব্য করেন। তিস্তা প্রকল্পে চীন কাজ করার বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের অনুরোধে তিস্তা প্রকল্পে চীন কাজ করবে এবং অন্য কোনো ইস্যু আমাদের ভাবনার বিষয় নয়। তিস্তা প্রকল্পে চীনের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে এবং চীন তাদের সামর্থ্যের মধ্যে থেকে এই প্রকল্পে বাংলাদেশকে সহায়তা অব্যাহত রাখবে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর অত্যন্ত সফল হয়েছে এবং এ সফরে দু’দেশের কৌশলগত পর্যায়ে সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে আস্থার একটি নতুন স্তর তৈরি হয়েছে। তিস্তা ইস্যুতে চীনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশ ও চীন আঞ্চলিক সংযোগ জোরদারে নতুন বিকল্প নিয়ে কাজ করবে। এর মধ্যে চীন-বাংলাদেশ সরাসরি সংযোগ এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোরের উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীনের অর্থনৈতিক করিডোর একটি নতুন কৌশলগত সুযোগ তৈরি করছে। বৃহত্তর আঞ্চলিক সহযোগিতার জন্য চীন এ অর্থনৈতিক করিডোর নির্মাণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
ইয়াও ওয়েন বলেন, অর্থনৈতিক করিডোর নির্মাণের বিষয়টি নতুন নয়, কারণ ১৫ বছর আগে বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার (বিসিআইএম) অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে আলোচনা হয়েছে, কিন্তু কোনো অগ্রগতি হয়নি। ভারতসহ অন্য যেকোনো দেশের যোগদানের জন্য উন্মুক্ত, তবে সেই দেশগুলোকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
দুই দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সংলাপ ‘টু প্লাস টু’ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উন্নত করার জন্য দুই দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতারা একসঙ্গে আলোচনায় বসেন এবং সরকার ও রাজনৈতিক দলের মধ্যে যৌথ স্বার্থ নিয়ে সৌহাদ্যপূর্ণ আলোচনা হয়। দুই নেতার মধ্যে (শি জিনপিং ও তারেক রহমান) ‘টু প্লাস টু’ আলোচনা ও সামরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ সংলাপ ব্যবস্থার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতা প্রসঙ্গে ইয়াও বলেন, বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা ব্যাপক এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা তার একটি অংশ। তবে রাষ্ট্রদূত কোনো নির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়ের বিষয়ে মন্তব্য করেননি। চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়ন সহযোগিতার বিষয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই বলেও জানান তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন