প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ মন্ত্রী, আজ রাজধানী ঢাকার মতিঝিলে ডিসিসিআই আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন। ছবিটি বাসস থেকে নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা, ২৯ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানিয়েছেন, সরকারের লক্ষ্য শুধুমাত্র খাল খনন করা নয়; বরং নদী, খাল, জলাধার এবং পরিবেশ সংরক্ষণের মাধ্যমে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা।
এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজন সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী সমাজ এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ।
আজ রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত সেমিনারে ‘বাংলাদেশে বৃত্তাকার নৌ-পথের পুনরুজ্জীবন ও অভ্যন্তরীণ নৌ-বাণিজ্যের সম্প্রসারণে খাল খনন কর্মসূচির ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি আরও বলেন, দেশের খাল হচ্ছে প্রকৃতির রক্তনালী। যদি খাল এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পারস্পরিক সংযোগ ঠিক না থাকে, তাহলে পরিবেশ, পানি ব্যবস্থাপনা ও অর্থনীতি মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে। তাই খাল পুনঃখনন এবং নদী সংরক্ষণে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে একত্রে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
মন্ত্রী জানান, মানুষের শরীরে যেমন রক্ত চলাচলের জন্য রক্তনালী অপরিহার্য, তেমনি দেশের খালগুলিও প্রকৃতির রক্তনালীর মত। একটি খালের সঙ্গে অন্য খাল ও নদীর সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে পানি প্রবাহ ব্যাহত হবে, ফলে কৃষি, পরিবেশ, নৌ-পরিবহন এবং নগরজীবনে তার প্রভাব পড়বে।
তিনি এই বিষয়টিও উল্লেখ করেন যে, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় বর্তমানে ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম), সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) এবং ওয়ারপোর মতো বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের সাথে গবেষণা ও আলোচনা করে পরিকল্পনা গ্রহণ করছে।
অতীতের বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পরিবর্তে এখন সমন্বিতভাবে কাজ করার দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন ভূমি, কৃষি, স্থানীয় সরকার, নৌপরিবহন, পরিবেশ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করার। পূর্বে খাল খনন কর্মসূচি নিয়ে এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ নেই থাকায় প্রত্যাশিত সুফল মিলছে না।
এ সময় তিনি আরও বলেন, বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ, বালু এবং টঙ্গী নদীগুলোর বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। শিল্পবর্জ্য, দখল এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে নদীগুলোর মারাত্মক সংকট দেখা দিচ্ছে। এই সমস্যা শুধু একটি মন্ত্রণালয়ের নয়, বরং এটি পুরো রাষ্ট্র এবং জনগণের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
মন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘকাল ধরে ঢাকার নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করার, নদীর তীরে ওয়াকওয়ে নির্মাণ এবং জলপথে ওয়াটার ট্যাক্সি চালুর পরিকল্পনাগুলোর কথা বলা হলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি। অথচ প্রতিবেশী দেশের বিভিন্ন শহরে নদীকেন্দ্রিক উন্নয়ন অর্থনীতি এবং পর্যটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নামার কারণে উদ্বেগ প্রকাশ করে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, যদি উপরিভাগের পানির উৎস সংরক্ষণ করা না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বড় ধরনের সংকটের মুখোমুখি হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার জন্য আগামী ৫০ থেকে ১০০ বছরের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এখন থেকেই পরিকল্পনা গ্রহণের উপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
সরকারের পরিকল্পনার বিষয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন, বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশ ও পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন সম্পর্কে পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য বিশেষজ্ঞদের সাথে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে সরকার।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ। সেমিনারের নির্ধারিত আলোচনায় পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলমগীর, স্থাপত্য অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান স্থপতি কাজী গোলাম নাসির, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ আবেদ হোসেন, সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস-এর ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক মো. মোতালেব হোসেন সরকার, ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং-এর সিনিয়র স্পেশালিস্ট মো. তানিম সারওয়ার, আল্টাফুয়েল ড্রেজিং অ্যান্ড মেরিন সার্ভিসেস-এর চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন শওকত ইকবাল এবং ভিত্তি স্থপতি বৃন্দ লিমিটেড-এর ফাউন্ডার পার্টার স্থপতি ইকবাল হাবিব প্রমুখ অংশগ্রহণ করেছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন